, বালুরঘাট, ২৪ মে —— উচ্চ মাধ্যমিকে নজর কাড়া সাফল্য দক্ষিণ দিনাজপুরে। প্রথম দশে জায়গা পেল জেলার চার কৃতি ছাত্র ছাত্রী। ৪৯৪ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে বালুরঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী শ্রেয়া মল্লিক ও অনুসূয়া সাহা। ৪৯৩ নম্বর পেয়ে রাজ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা কুমারগঞ্জের ডাঙারহাট হাইস্কুলের ছাত্রী সৃজিতা সাহা। অন্যদিকে ৪৮৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে বালুরঘাট হাইস্কুলের ছাত্র সপ্তক দাস। যাদের রেজাল্টে কিছুটা উচ্ছ্বসিত হয়ে এদিন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে। বালুরঘাট থানার আইসি শান্তিনাথ পাজা এবং হিলি থানার আইসি গণেশ শর্মা ছাত্র ছাত্রীদের হাতে ফুলের তোড়া ও মিষ্টির প্যাকেট তুলে দিয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
বালুরঘাটের চকভবানী এলাকার বাসিন্দা তথা কলাবিভাগের ছাত্রী শ্রেয়া মল্লিকের ইচ্ছে ইংরেজি নিয়ে পড়াশুনা করে উচ্চ শিক্ষিত হবার। কিন্তু বর্তমানে তার বাধা হয়ে দাড়িয়েছে পারিবারিক আর্থিক অনটন। বাবা অধীর কুমার মল্লিক পেশায় লক্লার্ক। যে কারণে ভালো ফলাফল করেও ভবিষ্যৎ পড়াশুনা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় শ্রেয়া ও তার পরিবারের লোকেরা।
রাজ্যের মধ্যে যুগ্ম ভাবে তৃতীয় হয়েছে অনুসূয়া সাহা। বালুরঘাট ললিত মোহন আদৰ্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী অনুসূয়ার বাড়ি হিলির বাবুপাড়াতে। অনুসূয়ার বাবা অজয় সাহা ডাক বিভাগে কর্মরত।
মা ইতি সাহা আশাকর্মী। হিলি থেকেই নিয়মিত বালুরঘাটে এসে পড়াশুনা করত অনুসূয়া। প্রথম দশের মধ্যে মেধা তালিকায় তৃতীয় হওয়ায় ভীষণ খুশি অনুসূয়া ও তার পরিবার। ৫০০ এর মধ্যে ৪৯৪ পেয়ে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে সে। ভূগোল নিয়ে পড়াশুনা করে শিক্ষকতা করবার ইচ্ছে রয়েছে অনুসূয়ার। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার কথাও বলেছেন অনুসূয়া সাহা।
জেলার সীমান্ত অধ্যুষিত ও প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রী সৃজিতা সাহা এবারের মেধাতালিকায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। কুমারগঞ্জ ব্লকের ডাঙ্গারহাট হাই স্কুলের ছাত্রী সৃজিতার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৩। কলা বিভাগে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শিক্ষিকা ও সমাজসেবী হতে চায় সে।সৃজিতার বাবা সুজিত বসাক পেশায় টোটো চালক। ড্রাইভারি ও টোটো চালিয়েই সংসারের খরচ যোগান। মেয়ের এই সাফল্যে খুশি হলেও আগামীতে উচ্চ শিক্ষাদানের খরচ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তার ভাজ বাবা ও মা সোমা বসাকের কপালে। যদিও সর্বত্রভাবে সৃজিতার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে তার প্রতিবেশীরা।
অন্যদিকে মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও সফলতা এনে দিল বালুরঘাট হাইস্কুল। ৪৮৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করল সপ্তক দাস। ডাক্তারি ও ইঞ্জিনীয়ারিং দুই ক্ষেত্রেই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। বালুরঘাটের চকভবানী এলাকার বাসিন্দা সপ্তক দাসের বাবা অতনু দাস ও মা, সীমা দাস বাইন দুজনেই কেন্দ্রীয় সরকারের ডাক বিভাগের কর্মচারী। ছেলের চিকিৎসক হবার স্বপ্ন নিয়েই তার পড়াশুনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চান সপ্তকের বাবা ও মা।

