গঙ্গারামপুর থানার সুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পীরপালে  মেলার আয়োজন হয়।জাকে ঘিরে উভয় সম্প্রদায়ের মানুজন মিলিত হন, বিভিন্ন জিনিস দিয়ে পুজো হয়ে থাকে ভক্তরা   

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

গঙ্গারামপুর 22 এপ্রিল দক্ষিণ দিনাজপুর : ——–বখতিয়ার খিলজির মাজারে পুজো দিলেন হিন্দু ও মুসলিম উভায় সম্প্রদায়ের মানুষজন।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার সুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পীরপালে এমন মেলার আয়োজন হয়।জাকে ঘিরে উভয় সম্প্রদায়ের মানুজন মিলিত হন।

বৈশাখ মাসের প্রতি বৃহস্পতিবার বখতিয়ার খিলজি মাজারে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন ফল, ফুল,বেলপাতা,দুধ,বাতাসা, খগরা,মুরকি,দিয়ে পুজো ও মানত হিসেবে মাটির ঘোড়া দিয়ে পুজো দিতে থাকেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়। এদিন ছিল বৈশাখ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার। স্বাভাবিক ভাবে নিয়ম মেনে এদিন থেকে পুজো শুরু হল বখতিয়ার খিলজির মাজারে।

কথিত আছে ইখতিয়ার উদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন কুতুব উদ্দিন আইবকের বিশ্বস্ত সেনাপতি।তুর্কী সেনাপতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠাতা করা।১২০৬সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি তিব্বত আক্রমন করেন। কিন্তু শেষে পরাজয়ের সম্মুখিন হয়ে মাত্র ১০০সৈন্য সামন্ত নিয়ে গঙ্গারামপুরের দেবীকোটে ফিরে আসেন।তিব্বত থেকে ফিরে বখতিয়ার খলজি যেস্থানে আস্তানা গাড়েন সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেসময় বখতিয়ার খিলজির সৈন্য আলি মর্দান দ্বারা নিহত হন। নিহতের পর তাকে তাঁর সেই আস্তানাতে সমাধিস্থ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। আর তখন থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বখতিয়ার খিলজি পীরসাহেব নামে পরিচিত হয়। তারপর থেকে বছরের পর বছর সকাল থেকে পীরপাল সহ নারায়ণপুর, সুকদেবপুর,লক্ষ্মীতলা,দেবীপুর,শিববাড়ি সহ গঙ্গারামপুরের আশপাশ এলাকার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন পীরের মাজারে পুজো দিতে আসেন। বৈশাখ মাসের প্রতিটি বৃহস্পতিবারে মাজারে পুজো দেওয়া হবে। এদিন পীরসাহেবের মাজারে পুজো দিতে আসা মাম্পি দাস বলেন, পীর সাহেবের মাজার খুবই জাগ্রত। সেজন্য কিছুদিন আগে সাংসারিক একটি বিষয়ে মানত করে ছিলাম। সেটা মনোবাসনা পূর্ন হয়েছে। সেজন্য আজকে,ফল,ফুল,বেলপাতা,দুধ,বাতাসা খগরা মুরকি দিয়ে পুজো দিলাম। । তৃতীয় বখতিয়ার খিলজির মাজার চত্বরে বসবে সত্যপীরের গানের আসর। পীর সাহেব মাটিতে শায়িত আছে বলে পীরপাল গ্রামের বয়স্ক মানুষজন আজও কাঠের চৌকিতে বা খাটে ঘুমান না। মাটিতেই ঘুমান। তবে বখতিয়ার খিলজি মাজারের চারদিকের প্রাচীর ধ্বংশাবসে পরিণত হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা সংস্কারের দাবি তুলেছেন।

বখতিয়ার খিলজির মাজারে দোকান নিয়ে বসেছিলেন,গৃহবধূ অলোকা রায়। তাঁর কথায় সারা বছর দুর দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ ঘুরতে আসেন। কিন্তু বৈশাখের প্রতি বৃহস্পতিবার হাজার হাজার ভক্তরা পুজো দিতে আসবেন।এদিন সকাল থেকে অনেক ভক্ত এসেছেন বখতিয়ার খিলজির মাজারে পুজো দিতে। কেনাবেচা বেশ ভালোই হয়েছে।                                                           তপন মন্ডল বলেন,পুজোর সময় প্রতিবছর পীরে মাজারের আসি। কিন্তু পুজো দেয় হয়নি। গতবছর একটি বিষয়ে মানত করে গিয়েছিলাম। সেটার মনস্কামনা পুর্ন হওয়ায় এদিন প্রথম বৃহস্পতিবার এসে পুজো দিয়ে গেলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *