পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই স্কুল ছাত্রীর নাম শোহরবানি খাতুন, বয়েস ১৭ বছর। বাড়ি গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত হাসানপুর এলাকায়। মৃত স্কুল ছাত্রী নারায়ণপুর হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত দুই বছর আগে বাবা মারা গিয়েছেন। মা তার দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে বুনিয়াদপুর বড়াইল মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাড়িয়ে ভাড়া থেকে লোকের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন ও দুই মেয়ে ও ছেলেকে পড়াশুনা করতেন। শোহরবানি খাতুনের সঙ্গে বহু দিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উটেছিল বংশীহারী থানার অন্তর্গত ঝাড়পুকুর এলাকার যুবক রাবিউল করিমের সঙ্গে। মৃত ওই স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে ঝাড়পুকুর এলাকার যুবক রাবিউল করিমের সঙ্গে বিয়ের কথা বার্তাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় বিয়ের ডেট ঠিক করা হয়নি।
কিন্তু তার মধ্যে মৃত স্কুল ছাত্রী প্রায় এক মাসের গর্ভবতী ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। নিজের ডাইরিতে লেখা রয়েছে তার মৃত্যুর কারণ রবিউল করিম। সে এই যুবকের বাচ্চার মা হতে চলেছেন। সেই খবর যুবককে জানালে তাকে মরে যেতে বলেছেন বলে দাবি পরিবারের লোকের। মৃত ওই স্কুল ছাত্রী ভাড়া বাড়িতে নিজের ঘরে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মা কাজ সেরে ভাড়া বাড়িতে এসে দেখেন ঘরের দরজা লাগানো। জানালা খুলে দেখতে পান তার মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখতে পান ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে মৃত স্কুল ছাত্রী। তার বিছানা থেকে উদ্ধার হয় সুসাইড নোট। যেখানে তার মৃত্যুর কারণ ঝারপুকুর এলাকার যুবক রাবিউল করিম ও তার মা বাবার নাম লেখা রয়েছে। তড়িঘড়ি তাকে রশিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে মৃত্যু স্কুল ছাত্রীর মা দিলরুবা বেগম ও বাড়ির মালিক মঞ্জিলা খাতুন বিবি জানিয়েছেন আমি কাজ করে ১ টাই ভাড়া বাড়িতে এসে দেখতে পাই ঘরের দরজা বন্ধ করেছে। জানালা খুলে দেখতে পাই সেই ঝুলে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা খুলে দেখতে পাই আমার মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে সুইসাইড নোট। আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ছারপুকুর এলাকার সাইদুর আলীর ছেলে রাবিউল করিমের সঙ্গে। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় তাদের বিয়ের ডেট ঠিক করা হয়নি। আমার মেয়ে ডাইরিতে লেখে রেখেছে সে গর্ভবতী রয়েছে। তার মা মৃত্যুর কারণ রবিউল করিম ও তার মা বাবা। আমরা তাদের শাস্তি চাই।

