জেলা সিডাব্লিউসি চেয়ারপারসনের কাছে নাবালিকা মেয়েকে সরকারি হোম থেকে ফেরত চাইতে গিয়ে চরম হেনস্থার হলেন নাবালিকার বাবা-মা বলে অভিযোগ করেন, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলো প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায়, অভিযোগ অস্বীকার জেলা সিডাব্লিউসি চেয়ারপারসনের ,ঘটনায় শোরগোল পড়েছে জেলাজুড়ে

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

গঙ্গারামপুর:– ২৬ শে আগস্ট দক্ষিণ দিনাজপুর   সরকারি হোমে থাকা নাবালিকা মেয়েকে ফেরত চাইতে গিয়ে অশালীন গালাগালি ও তাদেরকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুললেন নাবালিকার মা-বাবা জেলা সিডাব্লিউসি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে।চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সিডাব্লিউসি বালুরঘাটের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে।অভিযুক্ত চেয়ারপারসেনের বিরুদ্ধে পুরো ঘটনা জানিয়ে নাবালিকার মা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, চিফ সেক্রেটারি থেকে শুরু করে কলকাতা উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি,চেয়ারম্যান মহিলা কমিশন,রাজ্য ওমেন এন্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ,ডিভিশনাল কমিশনার জলপাইগুড়ি,জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও রেজেস্টি পোষ্টের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।এমন ঘটনা নিয়ে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন জেলা ও মহকুমা আদালতে দুই বিশিষ্ট আইনজীবীরা।যদিও অভিযুক্ত চেয়ারপারসন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ টেলিফোনে অস্বীকার করেছেন।পুরো ঘটনায় শোরগোল পড়েছে গঙ্গারামপুর সহ জেলাজুড়ে। গঙ্গারামপুর পৌরসভা এলাকার এক বাসিন্দা গৃহবধূ গত কয়েক মাস আগে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন যে,তার নাবালিকা মেয়েকে গঙ্গারামপুর পৌরসভার কাদিঘাট এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত জিৎ সূত্রধর,তার পিতা সুকুমার সূত্রধর,আত্মীয় প্রেমা সূত্রধর,আনন্দ সূত্রধর,দেবাশীষ সূত্রধর, সাথী সূত্রধর,রত্না সূত্রধরেরা মিলে তার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।এমনকি অভিযুক্তরা নাবালিকা মেয়েকে গোপনে কোথাও আটকেও রাখে বেশ কয়েকদিন বলে অভিযোগ করেন ওই নাবালিকার মায়ের।নাবালিকের মায়ের দাবি,তার নাবালিকা মেয়ে সুযোগ বুঝে ২৩/৭/২০২৪ তারিখে অভিযুক্তদের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে চলে আসে নিজের জীবন বাঁচিয়ে কোনক্রমে।যে ঘটনায় গঙ্গারামপুর থানায় অভিযুক্তদের নামে একটি মামলাও দায়ের করা হয় গত ২৫/০৭/২০২৪ তারিখে নাবালিকার মায়ের তরফে। অভিযুক্তদের নামে বিভিন্ন ধারাতে মামলাও দায়ের করে থানায়।বর্তমানে সেই মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, উক্ত মামলায় পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নাবালিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর জেলা সিডব্লিউসিতে পাঠায়। সূত্রে আরো জানা গেছে যে,সিডাবলুসি তরফে চেয়ারপারসন ওই নাবালিকাকে রায়গঞ্জের হোমে রেখে দিয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। নাবালিকার মায়ের অভিযোগ ,কয়েকদিন আগে তার নাবালিকার মেয়েকে ফিরে দেখার জন্য বালুরঘাট সিডব্লিউসির চেয়ারপারসনের সাথে দেখা করেন।সেখানে কয়েকদিন ঘুরার পরে নাবালিকা মায়ের দাবি, তার নাবালিকা মেয়ে রায়গঞ্জের হোমে থাকতে চাইছে না। তাই আমাদের হেফাজতে দেওয়ার দাবি জানাই। নাবালিকার মায়ের আরো অভিযোগ,কেন বিভিন্ন জায়গায় লিখিতভাবে জানানো হলো এমন কথা বলে চেয়ারপারসন তাকে অশালীন কথাবার্তা ও গালিগালাজ করতে থাকেন। এমনকি তার নাবালিকা মেয়েকে হোমেই পৌঁছিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওই নাবালিকার মায়ের।নাবালিকা মায়ের অভিযোগ,চেয়ারপারসন হুমকি দেন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি করে আমাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবেন না বলে হুমকি দেন।তাই মেয়েকে ফেরাতে বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। নাবালিকার বাবাও জেলার সিডব্লিউসি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ করেন। নাবালিকার বাবা দাবি করেন ,রায়গঞ্জের হোমে তিনজন মেয়ের সেখানে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।চেয়ারপারসেনের জন্য যদি আমার নাবালিকা মেয়ের কিছু হয় তার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন তিনি অভিযোগ করেন তিনি। সিডাব্লিউসি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনিও। বালুরঘাট জেলা আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী বিশ্বরূপ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, আইনে বলা আছে নাবালিকার হেফাজত সবার প্রথমে তার বাবা-মায়ের। কি করে একজন চেয়ারপারসন জোরপূর্ব তার মেয়েকে হোমে আটকে রেখেছেন সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে বিশিষ্ট আইনজীবী রঞ্জন পাণ্ডে (বুবলি)জানান, আইনে যা বলা রয়েছে তার উল্টো কাজ করছেন জেলার সিডাব্লিউসি চেয়ারপারশন, লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায়। তিনি নিজের ইচ্ছামত সবটাই করতে পারেন না।এমনকি বিভিন্ন নম্বর থেকে তিনি মোবাইলে ফোন করেও তাদেরকে দেখে নেবার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ তার। যদিও তার বিরুদ্ধে ওটা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সিডব্লুসির চেয়ারপারসন। প্রশ্ন উঠেছে যাদের হাতে নাবালিকা মেয়েদের সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের পরিবারের প্রধানদের সঙ্গেই সেই দপ্তরের চেয়ারপারসন করছে চরম দুর্ব্যবহার,হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে চলছেন বলে অভিযোগ তার।তাহলে কি সর্ষের মধ্যে রয়েছে ভূত ,যা আরজি করের ঘটনা রাজ্য সহ সারা দেশের বাসিন্দাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সেই প্রশ্নই তুলেছেন অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *