, বালুরঘাট, ১৯ জুন ——-— টাইমার লাগানোয় গড়িমসি! চুক্তিবদ্ধ এজেন্সীকে কড়া নোটিশ জারি করতেই বালুরঘাট পুরসভার বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ তুলে সরব এক ঠিকাদার এজেন্সি। ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো হুলুস্থুল কান্ড বালুরঘাটে। খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান ও তার পারিষদবর্গের বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক অভিযোগ ওঠায় পালটা আইনী পদক্ষেপ নেবার হুশিয়ারি বালুরঘাট পুরসভার। বুধবার পুরসভার সুবর্ণতট সভাগৃহে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে ওই ঠিকাদার এজেন্সীর বিরুদ্ধে এমনই কড়া পদক্ষেপ নেবার হুশিয়ারি দিয়েছেন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। যদিও নিজের তোলা অভিযোগের সততা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন ওই ঠিকাদার সংস্থার কর্নধার সৌমেন সরকার।
পুরসভা সুত্রের খবর অনুযায়ী, বালুরঘাট শহরের ২৫টি ওয়ার্ডে পথবাতি পরিষেবার জন্য রেমকো নামে একটি বেসরকারি সংস্থার সাথে চুক্তি রয়েছে কতৃপক্ষের। সেই অনুযায়ী প্রতিদিন ওই সংস্থার মোট ১২ জন কর্মী শহর জুড়ে পথবাতি জ্বালানো ও নেভানোর কাজ করে । পুর কতৃপক্ষের দাবি সঠিক সময়ে শহরজুড়ে পথবাতিগুলি পরিচালনার জন্য কাজে নিযুক্ত ওই ঠিকাদার সংস্থার টাইমার বসানোর কথা ছিল। কিন্তু তা না বসিয়ে বেশকিছুদিন ধরে গড়িমসি চালাচ্ছিলেন ওই সংস্থার কর্নধার সৌমেন সরকার বলে অভিযোগ । যা নিয়ে ইতিমধ্যে পুরসভার তরফে তিনবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে ওই সংস্থাকে । কিন্তু তার পরেও হুশ ফেরেনি কর্তৃপক্ষের। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে ওই এজেন্সীর কর্নধার সৌমেন সরকারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতেই পালটা চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ দপ্তরের এম সি আইসি বিপুল কান্তি ঘোষের বিরুদ্ধে কাটমানি তোলার অভিযোগ সামনে আনেন। সৌমেন সরকারের অভিযোগ, তার কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়া হয়েছে। যার বিরুদ্ধেই এদিন একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। তার দাবি কাটমানি তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই ঠিকাদার এজেন্সি নির্দিষ্ট সময়ে শহর জুড়ে টাইমার না লাগানোয় তাকে সতর্ক করেছিল পুরসভা। যার পরেই এমন একটি মিথ্যে অভিযোগ সামনে এনেছেন। চেয়ারম্যানের আরো দাবি, শহরের খিদিরপুরের ইলেকট্রিক চুল্লির কাজ ও বেশকিছু ইলেকট্রিকের সরঞ্জাম লাগানোর জন্য ওই ঠিকাদার এজেন্সী দুদফায় প্রায় দশ লক্ষ টাকা পাবে বলে পুরসভাকে চিঠি দিয়েছে। যার সাথে কাটমানির কোন সংযোগ নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ রাখা ও কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনায় ওই ঠিকাদার এজেন্সীর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন তারা। যদিও চেয়ারম্যানের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন ওই ঠিকাদার এজেন্সির কর্ণধার সৌমেন সরকার। তার দাবি, বেশকিছু এলাকায় টাইমার লাগানো হয়েছে। পুরসভার কাছে তার ১৫ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। এগুলো ছাড়াও তিনি আরো ১০ লক্ষ টাকা কাটমানি দিয়েছেন।
বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র জানিয়েছেন, টাইমার লাগানোর চাপ দিতেই ওই ঠিকাদার এজেন্সীর কর্নধার কাঠ মনির এমন মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। যার বিরুদ্ধে তারা আইনগতভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সৌমেন সরকার জানিয়েছেন, কাটমানি দেওয়া বা নেওয়া দুটোই সমান অপরাধ জেনেও একাজে কাটমানি দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

