জলপাইগুড়ি:—————-——- টানা বৃস্টির জেরে আচমকাই তিস্তার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বিপত্তি । তিস্তার চরে জলবন্দী হয়ে আটকে পড়ল দশজন গ্রামবাসী এবং পঞ্চাশটি গবাদিপশু। জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের নেওড়াবস্তির ঘটনা।এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে তিস্তা নদী। দিনকয়েক ধরে উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং সমতলে টানা বৃস্টি চলছে ফলে তিস্তার জলস্তর বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। নেওড়াবস্তি সংলগ্ন তিস্তানদীর চরে গবাদিপশু চড়ান এলাকার বাসিন্দারা। গত বুধবারও নদীর চরে প্রায় পঞ্চাশটি গবাদিপশু ছেড়ে এসেছিলেন তারা। সেদিন বিকেলে আচমকাই তিস্তার জল বেড়ে চর এলাকায় চলে আসে এবং গবাদিপশুগুলি আটকে পড়ে। শুক্রবার সকালে তিস্তার জল কিছুটা কমে। তখন এলাকার দশজন বাসিন্দা সেই গবাদিপশুগুলি আনতে যান। এদিকে বৃস্টি চলছিলোই। আচমকাই ফের জল বেড়ে যায় এবং ওই এলাকায় এ গবাদিপশু আনতে যাওয়া বাসিন্দারা সেখানে আটকে পড়েন। খবর যায় ক্রান্তি ব্লক প্রশাসন এবং ক্রান্তি ফাড়ির পুলিশের কাছে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ক্রান্তির বিডিও রিমল সোরেন এবং ক্রান্তি ফাড়ির ওসি বুদ্ধদেব ঘোষ। খবর পেয়ে আসেন তৃনমুলের ক্রান্তি ব্লক সভাপতি মহাদেব রায়। খবর দেওয়া হয় NDRF টিমকে। তারা এসে বোট নিয়ে আটকে পড়া দশজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। সকলেই সুস্থ রয়েছেন। যদিও এদিন গবাদিপশুগুলিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জল কমলে সেগুলিকে উদ্ধার করা হবে বলে জানা গিয়েছে।পাশাপাশি, প্রশাসন এবং পুলিশের তরফে গ্রামবাসীদের আপাতত নদীর চরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে পাহাড় সমতলে টানা বৃস্টির জেরে তিস্তানদী ফুলেফেঁপে উঠেছে। শুক্রবার গজলডোবার তিস্তাব্যারেজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়া হয়। এর জেরে তিস্তার জলস্তর অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। তার জেরে দোমোহনি থেকে মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে মেখলিগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সংকেত জারি করা হয়েছে। যদিও তিস্তার সংরক্ষিত এলাকায় এখনো পর্যন্ত কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন এবং গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির তরফে তিস্তানদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বৃস্টি চলা পর্যন্ত নদীতে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

