বালুরঘাট, ১৮ অক্টোবর ——— থানায় ঢুকে ভিডিও তুলবার অপরাধে এক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম থানায়। গুরুতর অসুস্থ জয়দেব সরকার বর্তমানে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও মারধরের অভিযোগ সম্পুর্ন অস্বীকার করেছে পতিরাম থানার পুলিশ।
জানা গেছে বিজয়া দশমীর রাতে পতিরাম থানার বাউল এলাকায় একটি মারপিটের ঘটনা ঘটে। যার তদন্তে নেমেই এদিন বাউল এলাকা থেকে শুভজিত সরকার নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পতিরাম থানার পুলিশ। যাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এদিন থানায় ঢুকে ধৃত ওই যুবকের আত্মীয় জয়দেব সরকার একটি মোবাইল দিয়ে ভিডিও করতে উদ্যত হয়। যা দেখে বাধা প্রদান করে সেখানকার কর্তব্যরত পুলিশ অফিসাররা। আর এরপরেই এনিয়ে পুলিশের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক বলে অভিযোগ। ঘটনার পরেই তাকে থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে পুলিশকর্মীরা বলে অভিযোগ। যে মারের কারনেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে জয়দেব সরকার বলে দাবি তার পরিবারের। এরপরেই তড়িঘড়ি এম্বুলেন্স ডেকে অসুস্থ ওই স্কুল শিক্ষক কে নিয়ে আসা হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। যেখানেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে জয়দেব সরকার। যা নিয়েই তার পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, পুলিশের মারের জেরেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছে জয়দেব। যদিও পরিবারের তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে পতিরাম থানার পুলিশ। পতিরাম থানার ওসি সতকার সাংবো জানিয়েছেন, পুলিশি নিষেধ উপেক্ষা করে থানার ভিডিও তুলছিল ওই স্কুল শিক্ষক। এরপরেই পুলিশকর্মীরা তাকে ধরতেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে সে। দ্রুততার সাথে তড়িঘড়ি এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। মারধরের কোন ঘটনাই সেখানে ঘটে নি।
আহত স্কুল শিক্ষকের স্ত্রী শুক্লা সরকার ও তার বাবা রামপ্রসাদ সরকাররা বলেন, এভাবে কাউকে মারতে পারে পুলিশ। থানায় তাদের পরিচিত একজনকে নিয়ে যাওয়ায় তিনি তার খোজ নিতে পতিরাম থানায় গিয়েছিলেন। যেখানেই তাকে বেধড়ক মারধর করেছে পুলিশ কর্মীরা। আর যে কারনেই সংজ্ঞাহীন হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

