বালুরঘাট, ২৩ জুন —–—– দন্ডি কান্ড নিয়ে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা! সরকারি আইনজীবী কে সরানোর দাবি জানিয়ে বিজেপি বিধায়কের চিঠি লিগাল সেলকে। বালুরঘাট জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী কে সরানোর দাবি জানিয়ে ইমেল বুধরাই টুডুর। ঘটনা জানিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসককে একটি ইমেলও করেছেন তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু। বিধায়কের অভিযোগ এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর স্বামী ঋতব্রত চক্রবর্তী, যিনি বর্তমানে বালুরঘাট জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবীর পদে রয়েছেন। যার দ্বারা এই বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে এবং সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন আদিবাসী মহিলারা। যে আশঙ্কায় ইমেল করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বুধরাই বাবু।
প্রসঙ্গত, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অপরাধে তপনের চার আদিবাসী মহিলা কে দিয়ে দণ্ডি কাটাবার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের মহিলা নেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর পুত্রবধূ প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। যে ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। যারপরে দলের পদ তো বটেই বালুরঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্রদীপ্তা চক্রবর্তী কে। ঘটনা নিয়ে জেলায় এসে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে এই ঘটনার বাকি দুই অপরাধী গ্রেফতার হলেও অধরাই ছিলেন মূল অভিযুক্ত। যা নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে বিভিন্ন আদবাসী সংগঠনও। কিন্তু তারপরেও তাকে গ্রেফতার করবার সাহস দেখায় নি জেলা পুলিশ প্রশাসন। যে ঘটনা নিয়ে অবশ্য প্রথম থেকেই প্রভাবশালীর অভিযোগ তুলে এসেছে বিরোধীরা। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতেই আদালতে চার্জশিট পেশ করে জেলা পুলিশ প্রশাসন। যেখানে আনন্দ রায়, বিশ্বনাথ দাস এবং প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসে যে চার্জশিট বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে ১২ জন পুরুষ মহিলার নামও সেই চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ বলে আদালত সুত্রের খবর। আর এর পরেই এই ঘটনা নিয়ে সঠিক বিচারের আশায় জেলা শাসক এবং লিগ্যাল সেল কে ইমেল করেছেন তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু। তার অভিযোগ, চার্জশিটে যে প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর নাম রয়েছে তার স্বামী ঋতব্রত চক্রবর্তী বালুরঘাট জেলা আদালতের সরকারী আইনজীবির পদে রয়েছেন। যার দ্বারা যেকোন সময়েই এই মামলা প্রভাবিত হতে পারে এবং সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন আদিবাসী মহিলারা। আর যে কারনেই সরকারী আইনজীবীর পদ থেকে তাকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিধায়ক বুধরাই টুডু বলেন, দণ্ডি কান্ডের মূল অভিযুক্ত প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর স্বামী ঋতব্রত চক্রবর্তী একজন সরকারি আইনজীবী। যার দ্বারা যেকোন সময় এধরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা প্রভাবিত হতে পারে। ঘটনার চার্জশিট জমা হবার পরেই সেই আশঙ্কা ক্রমশ বেড়েছে। আর সে কারণেই বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারি আইনজীবীকে সরাবার দাবি জানিয়েছেন

