দুর্গাপূজার প্রত্যেকটি বাড়িতে যে জিনিসটি দরকার হয় সেটা হল সোলার তৈরি কদম ফুল

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

কোচবিহার
লোকেশন :- তুফানগঞ্জ

দুর্গাপূজার প্রত্যেকটি বাড়িতে যে জিনিসটি দরকার হয় সেটা হল সোলার তৈরি কদম ফুল । আর বাকি মাত্র কয়েকটি দিন পূজার তাই কদম ফুল বানাতে ব্যস্ত সোলা শিল্পীরা । কোচবিহার জেলার, তুফানগঞ্জ দিনহাটার ও মাথাভাঙ্গার ,বিভিন্ন জায়গায় শোলা শিল্পীরা শোলা দিয়ে কদম ফুলের পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করেন পূজার জন্য । এমনই একজন সোলা শিল্পী কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ আন্দরান ফুলবাড়ী ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে নাটাবাড়ি রোড কাঠাল তলার বাসিন্দা ভুবেন বর্মন । ষোলা শিল্পী তিনি দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে শোলা দিয়ে কদম ফুলের পাশাপাশি বিভিন্ন ঠাকুর বানান । তবে দুর্গাপূজার সময় ব্যস্ততা থাকে একটু বেশি। স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে দিন রাত এক করে কদম ফুল তৈরি করেন । যাতে পূজার আগে কদম ফুল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পারেন । তবে বর্তমানে শোলা দিয়ে কদম ফুল তৈরি করা শিল্পীদের কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার দুটি কারণ রয়েছে একদিকে শোলা পর্যাপ্ত মাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে না । অন্যদিকে সোলার জায়গায় কিছু শিল্পী থার্মোকল ব্যবহার করে কদম ফুল তৈরি করছে । যা শোলার থেকে অনেক কম দামে বিক্রি করছেন তারা । যার ফলে শোলা শিল্পীদেরও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে কদম ফুল ।
ভূবেন বাবু বলেন, তুফানগঞ্জ এর বিভিন্ন এলাকাতেই শোলা শিল্পীরা রয়েছে । দুর্গাপূজার সময় কদম ফুল বানানোর পাশাপাশি তিনি শোলা দিয়ে তৈরি করেন রাজবংশী সম্প্রদায় বিভিন্ন ঠাকুর সহ নানা সোলার জিনিস । তিনি বলেন দুর্গাপূজার সময় তার কারো সঙ্গে কথা বলার মত সময় থাকে না । বর্তমান তিনি দিন রাত এক করে কদম ফুল তৈরি কাজ করছেন । তুফানগঞ্জে তিনি পাইকারি খুচরো দরে বিক্রি করেন এই কদম ফুল গুলো । প্রায় দশ হাজারের উপর কদম ফুল বিক্রি করেন তিনি প্রতিবছর। এ বছরও তার কম তিনি বিক্রি করবেন না বলেই আশা করছেন । তাই সকাল থেকে রাত স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে তৈরি করছেন শোলা দিয়ে কদম ফুল ।
তিনি বলেন থার্মকলের জন্য কিছুটা হলেও দাম কম পেলেও লাভের মুখ অবশ্যই দেখছেন । তবে তার কিছুটা হলেও আক্ষেপ রয়েছে । তার কথায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে এলেও কোনরকম সরকারি সহযোগিতা তাদের দেওয়া হয়নি ।
এছাড়া একই রকম ব্যস্ততা রয়েছে কোচবিহার জেলার অন্যান্য জায়গার শোলা শিল্পীদেরও ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ভুবন বাবু দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছেন । তিনি শুধু কদম ফুলি নয় তিনি শোলা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করেন । তাই সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পান তাহলে তার পক্ষে অনেকটাই উপকৃত হবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *