দেবী দর্শনে ভিআইপি ছোঁয়া!’— টাকার বিনিময়ে বিশেষ দর্শন কার্ড বোল্লা রক্ষাকালী পুজোয়, গুঞ্জনে তপ্ত ভক্তমহল

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

বালুরঘাট, ৫ নভেম্বর –—-শতাব্দী প্রাচীন বিশ্বাস, ভক্তির উচ্ছ্বাস, আর সেই আবেগের মাঝেই এবার নতুন অধ্যায়— টাকার বিনিময়ে ‘ভিআইপি দর্শন’। বোল্লা রক্ষাকালী মাতা মন্দিরের ইতিহাসে প্রথমবার, ভক্তদের জন্য চালু হলো টাকার বিনিময়ে দেবী দর্শনের বিশেষ ছাড়পত্র। উদ্দেশ্য— লক্ষ লক্ষ পুন্যার্থীর ভিড়ে যাতে কেউ বঞ্চিত না হন দেবী দর্শন থেকে। কিন্তু এই উদ্যোগই এখন মন্দিরচত্বরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো এই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা গ্রাম হয়ে ওঠে ভক্তির মেলাঘর। তিনদিনব্যাপী এই মহাপুজোয় জেলার সীমা পেরিয়ে হাজির হন দেশ-বিদেশের পুন্যার্থী। কিন্তু ভিড়ের চাপে অনেকেই কাছে থেকে দর্শন পান না দেবী রক্ষাকালীর। সেই অসুবিধা মেটাতে পুজো কমিটির এই নতুন ‘ভিআইপি কার্ড’ ব্যবস্থা।

কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই মন্দির কার্যালয়ে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে মিলবে এই ভিআইপি কার্ড। নির্দিষ্ট সময়ে কার্ডধারীদের জন্য থাকবে বিশেষ প্রবেশপথ ও আলাদা সারি। বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরাই সামলাবেন সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা। তবে এখানেই প্রশ্ন— পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দূরে রেখে এত বড় আয়োজন কতটা নিরাপদ হবে?

পুজো কমিটির সদস্য শুভম দাসের বক্তব্য, “এটি ভক্তদের সুবিধার্থেই করা হয়েছে। টাকার নির্দিষ্ট অঙ্ক ধার্য হয়নি। মন্দির কার্যালয় থেকেই তিনদিন ধরেই মিলবে ভিআইপি কার্ড। পুরুষ ও মহিলা নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্বে থাকবেন দর্শন ব্যবস্থাপনায়।”

ইতিমধ্যে পুজো কমিটি প্রস্তুত করেছে প্রায় পাঁচ হাজার কার্ড। কিন্তু সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই গুঞ্জন শুরু। অনেকেই বলছেন, “দেবী দর্শন কি তবে এখন টাকার বিনিময়ে মিলবে? ভক্তির মাপ কি অর্থে নির্ধারিত হবে?”

অন্যদিকে কমিটির যুক্তি, বিগত বছরগুলির ভিড়, ধাক্কাধাক্কি ও নিরাপত্তা সমস্যার অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর এমন পদক্ষেপ। তাঁদের মতে, এতে ভক্তরা আরও সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনের সুযোগ পাবেন।

তবে যত দিন যাচ্ছে, ততই প্রশ্ন বাড়ছে— ভক্তির পবিত্র পথে এবার কি প্রবেশ করল ‘ভিআইপি কালচার’? দেবীর আশীর্বাদ নিতে কি তবে এখন টিকিট কাটতে হবে পকেটের ভার অনুযায়ী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *