, বালুরঘাট, ২৩ জুন ——-— নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে বিএসএফের বাধায় তৃণমূল প্রার্থীরা। কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় গ্রামে ঢুকতেই তৃণমূল প্রার্থীদের আটকে দেয় বিএসএফ জওয়ানরা বলে অভিযোগ। ঘটনা নিয়ে কর্তব্যরত সেনা জওয়ানদের ঘেরাও করে বিক্ষোভও দেখায় তৃণমূল প্রার্থীরা। শুক্রবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় হিলির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হিন্দু মিশনপাড়া এলাকায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কাটাতারের ওপারে ভারতীয় গ্রামে শুধুমাত্র বেছে বেছে তৃণমূল প্রার্থীদেরই আটকে দিচ্ছে বিএসএফ জওয়ানরা। বিগত দু’দিন ধরে এই ঘটনা সীমান্তে চলছে বলেও অভিযোগ তাদের। যা নিয়েই এদিন কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল প্রার্থীরা। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বিএসএফের তরফে। এদিকে এই ঘটনার পরেই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। নির্বাচনী প্রচারে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীদের। যদিও এই ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থীদেরকে প্রচারে কোন প্রকার বাধা না দিলেও শুধুমাত্র তৃণমূল প্রার্থীদেরই সীমান্তে আটকে দিচ্ছে বিএসএফ। যদিও তৃণমূলের তরফে তোলা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, সীমান্তে চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। যেসব মানলে কোন সমস্যায় থাকে না।
ভারত বাংলাদেশের তিন দিক সীমান্ত বেষ্টিত জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর। কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় বেশ কিছু গ্রাম রয়েছে আজও। যে গ্রাম গুলির মধ্যে অন্যতম হিলির হাড়িপুকুর, গোবিন্দপুর ও হিন্দু মিশনপাড়া। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যে এলাকাগুলিতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই ভোট প্রচার করতে পারেন। বছরের অন্যান্য সময় যে গ্রামগুলিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিএসএফের কড়া নিয়মকানুন থাকলেও নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের প্রচারের জন্য তা কিছুটা শিথিল করা হয়। সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেখিয়েই প্রার্থী ও তার দলের লোকেরা অবাধে ভোট প্রচারে যেতে পারেন সেই গ্রামগুলিতে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বেজে গেলেও সীমান্তে যেন আজো বিএসএফের সেই কড়া নিয়মকানুনই জারি রয়েছে। আর এর জেরেই ভোট প্রচারে গিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। হিলির হিন্দু মিশনপাড়া এলাকায় এদিন সকাল থেকে এমনই এক ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় সীমান্তে। এদিন সকালে এলাকার তৃণমূল প্রার্থীরা হিন্দু মিশনপাড়া গ্রামে ঢুকতে গিয়েই বিএসএফের বাধার মুখে পড়ে। তাদের প্রথমে পরিচয়পত্র দেখিয়েও ঢুকতে দেওয়া হয়না বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, আটকে দেওয়া হয় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরও। যে ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা করার পরিস্থিতি তৈরি হয় সীমান্ত এলাকায়। যদিও পরবর্তীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। তৃণমূলের অভিযোগ, সঠিক পরিচয় পত্র দেখিয়েও দুদিন ধরে কাটাতারের ওপারের গ্রামে প্রার্থীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বিএসএফ। এদিন সকালে এসেও সেই একই সমস্যায় পড়েন তৃণমূল প্রার্থীরা। যা নিয়েই ক্ষোভ উগড়ে দেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
তৃণমূল প্রার্থী গৌরি মালী বলেন, সঠিক পরিচয় পত্র দেখিয়েও কাঁটাতারের ওপারের গ্রামে ভোট প্রচার করতে দিচ্ছে না বিএসএফ। যা নিয়েই এদিন ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তারা।
হিলি ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মিহির সরকার বলেন, বিজেপি সহ অন্যান্য প্রার্থীদের ভোট প্রচারে কোন বাধা না দিলেও বেছে বেছে শুধুমাত্র তৃণমূল প্রার্থী দেরই গ্রামে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। ঘটনা নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
কাঁটাতারের ওপারের গ্রামের এক বাসিন্দা সিধু ওরাও বলেন, অত্যন্ত কঠোর নিয়মে তাদের নাভিশ্বাস উঠবার জোগাড়। অসুখ বিসুখ নিয়ে রাত বিরেতে চরম সমস্যায় পড়েন তারা। বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে দেখা উচিত এবং কিছুটা নিয়ম শিথিল করা উচিত।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপী সরকার বলেন, তৃণমূলের তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সীমান্ত নিরাপত্তার কারণে কিছুটা বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হয় বাসিন্দাদের। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রাজ্য পুলিশ মনে করেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

