পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৭ জুন ——- পঞ্চায়েত ভোটের আগে হিলি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পদ থেকে অশোক জোয়ার্দ্দারের ইস্তফাকে ঘিরে রহস্য। ভেঙে গিয়েছে এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি। শুক্রবার হিলি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন কে দেওয়া ওই ইস্তফাপত্র কে ঘিরেই রীতিমতো চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে। ঘটনা নিয়ে অবাক খোদ সংগঠনের নেতৃত্বরাও। তবে কি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের গচ্ছিত বিপুল অঙ্কের টাকা হরিরলুট করতেই এমন কৌশল ? সভাপতির আচমকা পদত্যাগ নিয়ে এমনই গুঞ্জন তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে। যদিও অশোক জোয়ার্দ্দারের দাবি, শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণেই তার এই পদত্যাগ।
প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম স্থলবন্দর হিলিতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের সুবিধার্থে গড়ে তোলে এক্সপোর্ট এসোসিয়েশন। যে সীমান্ত দিয়েই প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টি মালবোঝাই লরি ওপারে বাংলাদেশে যায়। যেখান থেকেই সংগঠনের নাম করেই বাংলাদেশে যাওয়া প্রত্যেক মাল বোঝাই লরি থেকে দেড়শ থেকে দুশো টাকা করে তোলে হিলি এক্সপোর্ট এসোসিয়েশন। যে গচ্ছিত টাকা নানা সামাজিক কাজে ব্যয় করে এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের সদস্যরা। বর্তমানে সেই গচ্ছিত টাকার পরিমান প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকা বলে সংগঠন সুত্রের খবর। যে টাকা নয়ছয় করতেই কি এমন কৌশল ? যা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে হিলির এক্সপোর্টারদের একাংশের মধ্যে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক মুহুর্তে হিলি এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি পদত্যাগ করতেই যেন উস্কে ওঠেছে সেই প্রশ্নই। ভেঙে গিয়েছে হিলি এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের কমিটিও। ভোটের মুখে যেখানে আর নতুন করে কোন কমিটিই গঠন করা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ওই সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি আলাউদ্দিন মন্ডল। আর যার ফলেই সংগঠনের ওই গচ্ছিত টাকা নয়ছয় হওয়ার আরো প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে।
হিলি এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ধীরাজ অধিকারী বলেন, সভাপতির পদ থেকে অশোক জোয়ারদারের এমন আচমকা ইস্তফা তাদেরকেও অবাক করেছে। এর জেরে পুরো কমিটি ভেঙে গিয়েছে। রহস্যের গন্ধ তারাও পাচ্ছেন। তবে সংগঠনের গচ্ছিত ফান্ড এখনও সঠিক রয়েছে, এর বাইরে কিছু জানেন না।
হিলি এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক জোয়ার্দ্দার বলেন, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যাবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।

