বালুরঘাট, ২১ নভেম্বর ——পরকিয়ার জেরে আদিবাসী এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ কে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা। শুক্রবার সকাল থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় পতিরাম থানার ইন্দ্রা শিমুলডাঙা এলাকায়। মৃতর পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, ষাটোর্ধ রবীন কিস্কু ও শুকুরমনি পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুন করেছে তাদের একমাত্র ছেলে শৈলেন কিস্কু (২৬) কে। যদিও ওই দুই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা এমন খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের খবর অনুযায়ী, শিমুলডাঙা এলাকার বাসিন্দা রবীন কিস্কুর বাড়িতে মৃত শৈলেন কিস্কুর নিয়মিত আসা যাওয়া ছিল। বৃহস্পতিবার যার বাড়ি থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে একটি পুকুর পাড়ে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় ২৬ বছর বয়সী ওই তরুনের দেহ উদ্ধার হয়। এলাকারই বাসিন্দা সুভাষ কিস্কুর একমাত্র ছেলে শৈলেন কিস্কু। যার মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তার পরিবার সহ এলাকার বাসিন্দারা প্রায় সকলেই এই ঘটনা নিয়ে খুনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ রবীন কিস্কু ও তার পরিবারের লোকেরা পরিকল্পিতভাবে ওই যুবককে খুন করেছে। সরাসরি খুনের অভিযোগ স্বীকার না করলেও রবীন ও তার পরিবারের লোকেরা শৈলেনের পরকিয়ার তান্ডবে যে একপ্রকার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তা তারা সকলেই স্বীকার করেছেন। রবীন ও তার পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, ছোট ছেলে মানেজ কিস্কু বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে শৈলেন তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করে। রাত বাড়লেই ঘরের দরজা একপ্রকার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করত সে। এরপর ছোট ছেলের বউ এর সাথে রাতভর থেকে বেরিয়ে যেত সে। রোজকার যে ঘটনা নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল বৃদ্ধ দম্পতি। বৃহস্পতিবার তার বাড়ি থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে ওই যুবকের দেহ উদ্ধার হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ গড়ায় রবীন ও তার স্ত্রীর দিকে। এরপর সকলের চাপে খুনের ঘটনা স্বীকার না করলেও সেই দেহটিকে বাড়ি থেকে টেনে যে অন্যত্র নিয়ে গিয়েছিলেন তার কথা স্বীকার করেছেন বৃদ্ধ রবীন কিস্কু। তাদের দাবি, ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় শৈলেন ঘরের বাইরে গলায় ফাস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। যদিও তাদের এই যুক্তি মানতে চান নি শৈলেনের পরিবার সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি পিটিয়ে খুন করে তথ্য লোপাটের চেষ্টায় অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবার যে ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে ওই পরিবারের লোকেদের ঘেরাও করে মারমুখী হয়ে ওঠে। যে খবর পেয়েই তড়িঘড়ি এলাকায় পৌছে ওই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পতিরাম থানার পুলিশ।
মৃত যুবকের মা ফুলমনি টুডু ও তার এক আত্মীয় রমেশ কিস্কুরা বলেন, পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিল শৈলেন। তাকে ওইদিন রাতে একাধিকার ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে তারা।
বৃদ্ধ রবীন কিস্কু ও শুকুরমনি মার্ডিরা বলেন, ছোট ছেলে বাড়িতে না থাকায় তার বউ এর সাথে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করেছিল শৈলেন। বাড়িতে ঢুকতে দিতে না চাইলে জোর করে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করত সে। যা নিয়ে একাধিকবার ঝামেলা হয়েছে, তীর ধনুক নিয়ে তাড়া করেছি। তবুও তার অত্যাচার কোনভাবেই কমে নি। ওইদিন ঘরে ঢুকতে না দেওয়ায় উঠোনে একটি গাছের ডালে ফাস দিয়েছিল সে। যে ফাসের দড়ি খুলে অন্যত্র টেনে গিয়ে তার দেহ তারা রেখে দিয়েছিলেন।
প্রতিবেশী শুকলাল মার্ডি বলেন, খুনের ঘটনা স্পষ্ট। তাছাড়া কেন ওই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা ওই যুবকের দেহ টেনে অন্যখানে নিয়ে গেলেন। পরকিয়ার ঘটনা তারা জানেন না। তবে তারা চান এই ঘটনার পিছনে যারাই যুক্ত থাকুক তাদের কঠোর শাস্তি হোক।
পতিরাম থানার ওসি সৎকার সাংবো বলেন, পরিস্থিতি উত্তেজিত থাকায় ওই দুই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা কে থানায় নিয়ে এসে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে খুনের ঘটনার এখনো কোন লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

