বালুরঘাট, ১৪ নভেম্বর ——- বালুরঘাট পুরসভার উন্নয়ন তহবিল থেকে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শহরজুড়ে। পুরসভার চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার বালুরঘাট শাখার মাধ্যমে জাল চেক ব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনা জানিয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বিক্রান্ত কুমারকে লিখিত অভিযোগ পাঠানোর পাশাপাশি, অভিযোগ দায়ের হয়েছে বালুরঘাট থানাতেও।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন ভবন মেরামতির জন্য পুরসভার নিজস্ব ব্যাঙ্ক একাউন্টে রাখা ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে মঙ্গলবার ও বুধবার তিনটি চেকের মাধ্যমে ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৬৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু চেয়ারম্যানের দাবি, পুরসভার কাছে আসল চেকগুলি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাঙ্কে কীভাবে একই নম্বরের জাল চেক জমা পড়ল এবং কীভাবে তাতে পুরসভার এক্সিকিউটিভ ও ফিনান্স অফিসারের সই-সিল ব্যবহৃত হল।
পুরসভার আরো অভিযোগ, কলকাতার বউবাজার শাখা থেকে মহম্মদ ইশাক খান নামে এক ব্যক্তি এই টাকাগুলি তুলেছেন। যে ঘটনায় ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষকে দায়ী করে পুরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত না এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ব্যাঙ্ক ও পুরসভার মধ্যে এই আর্থিক জালিয়াতি ঘিরে বালুরঘাট শহরজুড়ে তুমুল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও এই ঘটনা তার শাখা থেকে হয়নি এবং তিনি এব্যাপারে কিছুই জানেন না বলেই দাবি করেছেন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বালুরঘাট শাখার ম্যানেজার বিক্রান্ত কুমার। তার দাবি পুরসভা যে অভিযোগ জানিয়েছে তা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে পাঠিয়ে দিয়েছেন তারা।
বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, যে চেক দেখিয়ে পুরসভার প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে তার আসল চেকগুলি তাদের কাছে অক্ষত রয়েছে। কিভাবে এই বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হল এবং কারা এর পিছনে জড়িত রয়েছে তা তদন্তের জন্য পুলিশ ও ব্যাঙ্ক ম্যানেজার কে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। ঘটনা জানানো হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন বিভাগের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কেও।

