প্রাইভেট প্র‍্যাকটিসে মত্ত চিকিৎসক! ছয় ঘন্টাতেও চিকিৎসা পেলনা প্রসূতি মহিলা। বালুরঘাট হাসপাতালে বেডে পড়ে থেকেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন গর্ভবতী আদিবাসী মহিলা।

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য

 

বালুরঘাট, ১০ এপ্রিল——-– প্রাইভেট প্যাক্টিসে মত্ত চিকিৎসক। ছয় ঘন্টাতেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেল না প্রসূতি মহিলা। বেডে পড়ে থেকেই মৃত্যু আদিবাসী মহিলা ও তার পেটে থাকা সন্তানের। সোমবার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাট হাসপাতাল চত্বরে। চলে হাসপাতাল সুপারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভও। মৃতর পরিবারের লোকেদের অভিযোগ বিনা চিকিৎসাতেই মৃত্যু হয়েছে মা ও তার গর্ভে থাকা শিশুর। চিকিৎসকের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন খোদ হাসপাতাল সুপার। ঘটনা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত রোগীর পরিবারের লোকেরা। যদিও এই ঘটনা নিয়ে মা ও শিশুকে খুন করার অভিযোগ তুলেছেন বালুরঘাটের সাংসদ।

জানাগেছে মৃত ওই প্রসূতি মহিলার নাম সুমিত্রা সোরেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের দেবীপুর এনাতুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা। মৃতার পরিবারের লোকেদের দাবি ৯ তারিখ কুমারগঞ্জের বড়াহার হাসপাতাল থেকে ওই মহিলাকে রেফার করা হয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। অভিযোগ এমারজেন্সিতে সকাল ৫ টায় ভর্তি নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় তার চিকিৎসায় কোন তৎপরতা দেখা যায়নি চিকিৎসকদের। এরপর বেলা বাড়তেই আচমকা স্বাস্থ্য কর্মীদের তৎপরতা লক্ষ্য করে পরিবারের লোকেরা। যে কারণে কিছুটা সন্দেহ হয় তাদের। এরপরেই তাদের জানানো হয় সুমিত্রার মৃত্যুর কথা। মৃতার স্বামী রাজেশ টুডু বলেন, সিজার করার জন্যই স্ত্রীকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বড় বড় ইমারতের নীচে বিনা চিকিৎসায় যে তার স্ত্রী ও পেটে থাকা সন্তানের মৃত্যু হবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। হাসপাতালে ভর্তি করার পর ছয়ঘন্টা কেটে গেছে কিন্তু একজন চিকিৎসক ও এসে তার স্ত্রীকে ছুয়ে দেখেনি। ঘটনা জানিয়ে হাসপাতাল সুপারকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তারা। অভিযুক্ত চিকিৎসক এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা। এদিন সকাল থেকে আদিবাসী ওই প্রসূতি মহিলার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকেরা। মৃত প্রসূতি মহিলার পোস্টমর্টেম কোনভাবেই করতে দেবেন না তারা এই দাবিতে অনড় থাকেন পরিবারের লোকেরা। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। চলে হাসপাতাল সুপারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভও। সরকারি হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় প্রসূতি মহিলার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যান সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। কেন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল ওই আদিবাসী মহিলা ও তার পেটে থাকা শিশুর? যা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

মৃত রোগীর আত্মীয় জয়ন্ত দাস ও নগেন সরেনরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে যদি রোগীর চিকিত্সাই না হবে তাহলে এই বড় বড় বিল্ডিং বানিয়ে কি লাভ? ডাক্তাররা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে সারাদিন ব্যস্ত থাকে। বিনা চিকিৎসাতেই তাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, এটা খুন করা হয়েছে দুদুটো প্রাণকে। বিনা চিকিৎসাতেই ওই প্রসূতি ও তার পেটে থাকা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন হাসপাতাল সুপার।

বালুরঘাট হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ জানিয়েছেন, চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা নিয়ে তাঁরা মেডিকেল এফ আয়ের করেছেন। তদন্ত করে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *