প্রাক্তন মন্ত্রীর খাসতালুকে অনুন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ! তপনের হজরতপুরে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ক্ষোভের সুর তৃণমূলের উপপ্রধানের গলায়।

উত্তরবঙ্গ কলকাতা খেলা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

, বালুরঘাট, ৬ জুন ———– পঞ্চায়েত ভোটের আগে অনুন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভের সুর তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের গলায়। জেলা পরিষদ থেকে বিডিও অফিস, এমনকি পাড়ায় সমাধানে দরবার করেও মেটে নি সমাধান। খোদ প্রাক্তন মন্ত্রীর খাস তালুকেই গত দু’বছর ধরে বেহাল রাস্তা নিয়ে চরম দুর্ভোগে ভুগছেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। যা নিয়ে নিত্যদিন বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূলের ওই উপপ্রধান। এই নিয়ে সরকারি দপ্তরে হাজারো দরবার করেছেন উপপ্রধান, কিন্তু আজো পাননি কোন সমাধান। আর তাই এবারে খোদ প্রশাসনের উপরই আস্থা হারিয়েই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোড়ই চ্যাচড়া এলাকার। যদিও উপপ্রধান বিদ্যুৎ কুমার বসাক এর দাবি, বাচ্চু হাসদা মন্ত্রীত্ব হারাবার কারণেই এলাকার বাসিন্দাদের আজ ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

তপন ব্লকের হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোড়ই চ্যাচড়া গ্রামটি প্রাক্তন মন্ত্রী বাচ্চু হাসদার অন্যতম খাসতালুক হিসাবেই পরিচিত। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসবার পর থেকে প্রথমে বিধায়ক এবং পরে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে নিজের এলাকায় ঢালাও উন্নয়ন করেন প্রাক্তন মন্ত্রী বাচ্চু হাসদা। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিদ্যুতায়ন এবং আদিবাসী এলাকার ছেলেমেয়েদের পঠন পাঠন সবক্ষেত্রেই বিশেষ নজর দেন তিনি। যার জেরে এলাকায় গড়ে ওঠে একটি মডেল স্কুলও। বর্তমানে ওই গ্রামে একটি মডেল স্কুল, হাইস্কুল ও একটি প্রাথমিক স্কুলও রয়েছে। শুধু তাই নয়, রয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রও। যে এলাকায় চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘ প্রায় দুবছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টোটো, মোটর বাইক ও সাইকেল উলটে ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়েই তৃণমূল ছেড়ে পদ্মবনে ঝাপ দিয়েছিলেন এলাকার ওই আদিবাসী নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বাচ্চু হাসদা। আর যার পর থেকেই কার্যত অনুন্নয়নে ডুবে রয়েছে পুরো এলাকা বলে দাবি করেছেন এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য তথা হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিদ্যুৎ কুমার বসাক। তার দাবি মুর্শিদাবাদ রোড থেকে কোড়ই চ্যাচড়া পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাকা রাস্তার পিচ, পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যার উপর দিয়ে চলাচল করতে খরার মরশুম তো বটেই বর্ষায় আরো চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তিনটি স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ও গ্রামের লোকেদের। বহুবার বহু জায়গায় যার দরবার করেও কোন সমাধান সূত্র বের হয়নি বলে দাবি করেছেন ওই তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। আর যা নিয়েই কিছুটা ক্ষোভের সুর তার গলায়।

হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিদ্যুৎ কুমার বসাক বলেন, এক রাস্তা নিয়ে বহু জায়গায় দরবার করেও মেটেনি সমাধান। মন্ত্রী থাকলে এমনটা হয়তো হতো না এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *