বালুরঘাট, ১২ আগষ্ট ——– স্বাস্থ্যভবন নির্মানেও নিম্নমানের কাজ! ঘটনার প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ বিজেপির যুব মোর্চার। শনিবার দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারী হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণে লাল বালির পরিবর্তে অতি নিম্নমানের সাদা বালি দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদার সংস্থা। যা এদিন হাতেনাতে পাকড়াও করেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। যদিও যুব মোর্চার তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থা।
জানা গিয়েছে, প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে সি সি ইউ ব্লক তৈরির উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য দপ্তর। যে কাজেই অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করবার অভিযোগ ওঠে কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে। এদিন তারই প্রতিবাদে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের নির্মীয়মান সিসিইউ ব্লকের কাছে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির যুব মোর্চার সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, সরকারী ওই কাজে লাল বালি দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও এদিন লাল বালির সঙ্গে অতি নিম্নমানের
সাদা বালি মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যা দিয়েই এদিন ভবনের পিলার ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। যা হাতে নাতে ধরে ফেলেই কাজ বন্ধ করে দেন
বিজেপির যুব মোর্চার সদস্যরা। যাকে ঘিরেই তুমুল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরে এনিয়ে হাসপাতাল সুপারের সঙ্গেও দেখা করে কথাও বলেন বিজেপির যুব মোর্চার সদস্যরা। জানা যায়, বেশকিছুদিন ধরেই বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে শুরু হয়েছে ক্রিটিকাল কেয়ার ব্লক গঠনের কাজ। হাসপাতাল চত্বরেই যে ব্লক গড়ে তোলা হচ্ছে। সিসিইউ ওই ব্লকে ৫০ টি বেড থাকবে। পাঁচতলা বিশিষ্ট ওই বিল্ডিং এর কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই সিসিইউ ব্লকের কাজ শেষ হলে বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল থেকে রোগী রেফারের সংখ্যা কমে যাবে বলেও মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যে কাজ শুরুতেই এমন নিম্নমানের কাজের অভিযোগ আসায় তুমুল বিতর্ক দাঁনা বেঁধেছে।
বিজেপির যুব মোর্চার শহর মন্ডল নেতা বাবুসোনা অধিকারী বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের যেকোন নির্মান কাজ অতি স্বচ্ছভাবে হওয়া দরকার। কেননা ভবিষ্যৎ এর কথা মাথায় রেখে এর উপর বিশেষ নজরদারিও রাখা প্রয়োজন। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে সেই সরকারী ভবন নির্মানের পিলার অতি নিম্নমানের সাদা বালি দিয়ে কাজ চলছে। যার প্রতিবাদ জানিয়েই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
কাজে নিযুক্ত ম্যানেজার অভিজিৎ মহন্ত বলেন, নিম্নমানের বালি দিয়ে কাজের অভিযোগ সম্পুর্ন ভিত্তিহীন। সাদা বালি অন্য কাজের জন্য নিয়ে এসে রাখা আছে।
বালুরঘাট হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ বলেন, পুরো বিষয়টি পিডাব্লিউ ডি দেখছে। ভবন নির্মানের ব্যাপারে তাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

