বিজেপিতে যোগ দেবার শাস্তি! তপনের চার আদিবাসী মহিলার সাথে বর্বোরচিত আচরণ মহিলা নেত্রীর। ক্ষমার অযোগ্য ঘটনা বলল তৃণমূল। আদিবাসী সমাজকে গর্জে ওঠার ডাক সুকান্তর।

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রাজ্য

 

বালুরঘাট, ৮ এপ্রিল —– —-— নিজেদের পছন্দ মতো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ায় কাউকে দন্ডি কেটে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে ? এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। বিজেপিতে যোগ দেবার অপরাধে চার আদিবাসী মহিলাকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডিকাটালো এক মহিলা তৃণমূল নেত্রী। দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের গোফানগর এলাকার ঘটনা। যে ঘটনার ভিডিও টুইট করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ঘটনা নিয়ে আদিবাসী সমাজকে গর্জে ওঠার ডাক দিয়েছেন।

জানা গেছে, তপন ব্লকের গোফানগর এলাকার বাসিন্দা ওই চার আদিবাসী মহিলার নাম মার্টিনা কিস্কু, শিউলি মার্ডি, ঠাকরণ সরেন ও মালতি মুর্মু। গত বৃহস্পতিবার এলাকার বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডু ও জেলা সভাপতি স্বরুপ চৌধুরীর হাত ধরে যোগ দিয়েছিল বিজেপিতে। যার শাস্তি হিসাবে শুক্রবার বালুরঘাটে বিজেপির দলীয় কার্যালয় থেকে তৃণমূল কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথ মাটিতে শুইয়ে দণ্ডিকাটিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করান তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। রাতে প্রচন্ড গরমে এক কিলোমিটার রাস্তায় দন্ডি কেটে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন ও-ই আদিবাসী মহিলারা। যে ভিডিও দেখে অনেকেই আঁতকে উঠেছেন। যদিও ওই মহিলা নেত্রীর দাবি, তারা নিজে থেকেই এই প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। এদিকে এই ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা আখ্যা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে আদিবাসী মহিলাদের প্রতি এমন অবমাননার কড়া নিন্দা করে টুইটও করেছেন সুকান্ত মজুমদার।

তিনি বলেছেন যেভাবে ও-ই চার আদিবাসী মহিলাকে নাকে খত দিয়ে তৃণমূলে নিয়ে গেছে তা সমগ্র আদিবাসী সমাজের অপমান। তৃণমূল বরাবরই আদিবাসী বিরোধী। এ-র আগে তারা দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি না করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন ছিল তার সবটাই করেছিল। এবারে চার মহিলাকে যেভাবে রাস্তায় নাকে খত দিয়ে দন্ডি কাটালো তার বিরুদ্ধে আদিবাসী সমাজ গর্জে উঠবে। আমরাও এ-র প্রতিবাদ করব। আদিবাসী সমাজের কাছে আমার আবেদন আপনারা তৃণমূল কংগ্রেস নামক এই অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন।

এদিকে এই ঘটনা নিয়ে মহিলা নেত্রীকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসও। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমনটাই জানিয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃণাল সরকার। তিনি বলেন, দলের সাথে কোন আলোচনা না করেই একাজ করেছেন তিনি। অন্য দল থেকে কাউকে আনতে গেলে দলের সাথে আগে আলোচনা করতে হয়। এক্ষেত্রে তিনি তা করেননি। তাছাড়া দলে ঢোকার জন্য তৃণমূলে এমন কোন নিয়ম নেই যে তাকে দন্ডি কেটে আসতে হবে। এই ঘটনা অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে। তারা আলোচনা করে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *