বুনিয়াদপুরে ফাঁকা বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, প্রায় ৩ লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ উধাও

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রাজ্য

 বালুরঘাট, ৬ মার্চ:—  দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলিগাড়া এলাকায় ফাঁকা বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় প্রায় ৩ লক্ষ টাকার সোনার গয়না ও নগদ অর্থ চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, আলিগাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন মণ্ডল (৩৮) পেশায় রাজমিস্ত্রি। পরিবারে রয়েছেন তাঁর মা, স্ত্রী ও ৮ বছরের একটি ছেলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী ছেলে নিয়ে গিট্টিমোড় ও রশিদপুরে বাজার করতে যান। সেই সময় বাড়িতে থাকা তাঁর মা পাশের বাড়িতে গল্প করতে গিয়েছিলেন। বাড়ির পিছনে একটি সরু গলি রয়েছে। সেই গলি দিয়ে ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে চোরেরা বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
অভিযোগ, বাড়ির সামনের গেটে বাইরে থেকে তালা মারা থাকলেও চোরেরা ভিতর দিক থেকে চিকল লাগিয়ে ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরের শোকেস ভেঙে নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শোকেস ভেঙে সোনার মালা, প্রায় আড়াই ভরি সোনার হার, পোলা, কানের দুল, নাকের ফুল, হাতের আংটি, ছেলের রুপোর মালা, দুটি বাজু, পায়ের তোড়া, সোনার লকেটসহ প্রায় ১০ হাজার টাকা নগদ চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার সামগ্রী চুরি হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
বাজার থেকে বাড়ি ফিরে এই ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন বাড়ির সদস্যরা। ঘটনায় শোকাহত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাড়ির মা ও স্ত্রী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা বুনিয়াদপুর টাউন তৃণমূল সভাপতি বিশ্বনাথ সরকার। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
বাড়ির গৃহবধূ শিবানী মণ্ডল জানান, “আমরা বাজার করতে গিয়েছিলাম। সেই সুযোগে চোরেরা বাড়িতে ঢুকে শোকেস ভেঙে টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। আমাদের সন্দেহ, পাড়ারই কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আমরা চোরদের কঠোর শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে তৃণমূলের টাউন সভাপতি বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “আমাদের পাড়ায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমারও মনে হচ্ছে এলাকার কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।”
এপ্রসঙ্গে গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার জানান,“পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে গিট্টিমোড় এলাকায় মাদক বা হেরোইন বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, সেই কারণেও এলাকায় এ ধরনের চুরির ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *