বোর্ডে ৭৯ লক্ষের স্বপ্ন, মাটিতে কাদা-ধুলো—রাস্তা কোথায়?’ প্রশ্নে ফুঁসছে নাজিরপুর, বাঁশের ব্যারিকেডে অবরুদ্ধ রাস্তা

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

বালুরঘাট, ২৩ মার্চ — বোর্ডে ঝকঝকে অক্ষরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, পাশে মোটা টাকার বরাদ্দ—কিন্তু বাস্তবে কাদা, ধুলো আর বেহাল পথ। প্রতিশ্রুতির সেই ঝলক আর বাস্তবের নির্মম ফারাক ঘিরেই সোমবার সকালে বিস্ফোরিত হল নাজিরপুরের জমে থাকা ক্ষোভ। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের এই সীমান্তবর্তী এলাকায় মুহূর্তে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। শেষমেশ বাঁশ ফেলে প্রধান সড়ক অবরোধ করে কার্যত অচল করে দেওয়া হয় গোটা এলাকা।
ঘণ্টাখানেকের এই অবরোধে থমকে যায় জনজীবন। রোদে দাঁড়িয়ে অসহায় অপেক্ষা, ক্ষোভ আর ভোগান্তির মিশেলে এক তীব্র চিত্র ফুটে ওঠে নাজিরপুরে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পতিরাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের তরফে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস মেলতেই অবশেষে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পথশ্রী প্রকল্পে প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দে ১.৬০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বোর্ডে স্পষ্ট উল্লেখ—বাবুলাল কর্মকারের বাড়ি থেকে নাজিরপুর এনএইচ হয়ে সুভাষ সরকারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা তৈরি হবে। কিন্তু অভিযোগ, নিশ্চিন্তা ও মহলা এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ বাদ দিয়েই কাজ চালাচ্ছে ঠিকাদার সংস্থা। ফলে প্রকল্পের আসল উপকারভোগীরাই থেকে যাচ্ছেন বঞ্চিত।
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় ১৫০টি পরিবারের বাস এই অঞ্চলে। রয়েছে প্রাথমিক স্কুল, এসএসকে কেন্দ্র—তবুও বছরের পর বছর কাঁচা, ভাঙাচোরা রাস্তায় নিত্য যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাম আমলে তৈরি ইটের রাস্তার পর আর কোনও স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি বলেই ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের কড়া মন্তব্য, “বোর্ডে আলো ঝলমল উন্নয়ন দেখিয়ে লাভ কী, যদি আমাদের পথই অন্ধকারে ঢাকা থাকে? প্রতিশ্রুতি নয়, চাই বাস্তবের রাস্তা।”
যদিও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহা দাবি করেছেন, এই অবরোধের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও নির্দিষ্ট খবর নেই।
এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—উন্নয়নের এই ‘বোর্ড রাজনীতি’ কবে নামবে মাটিতে? নাজিরপুরের মানুষ এখন তাকিয়ে বাস্তবের সেই রাস্তাটির দিকেই, যা এখনও কাগজে বন্দি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *