ভদ্রলোককে সরিয়ে পাতাখোর-নেশাখোরদের রাজত্ব!—অশোক লাহিড়ী প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিষেক, বালুরঘাটে নির্বাচনী মঞ্চে আগুনঝরা ভাষণ

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রাজ্য

 

বালুরঘাট, ৩১ মার্চ —– নির্বাচনের প্রাক্কালে বালুরঘাট যেন হঠাৎই পরিণত হল তপ্ত রাজনৈতিক অগ্নিগর্ভ মঞ্চে। মঙ্গলবার বিকেলে টাউনক্লাব মাঠে তৃণমূলের সভা ঘিরে জনসমাগম যেমন নজর কাড়ল, তেমনই নজর কাড়ল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগুনঝরা ভাষণ। অভিযোগ, কটাক্ষ আর তীব্র রাজনৈতিক বার্তায় ভরপুর সেই বক্তৃতা মুহূর্তেই উত্তপ্ত করে তোলে জেলার রাজনৈতিক বাতাবরণ।
মঞ্চে উঠেই ‘এস আই আর’-এর নামে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভিনরাজ্যের ভোটার ঢোকানোর চক্রান্ত চলছে। এমনকি মেদিনীপুরে একদিনেই ৮০০ ‘অবৈধ ভোটার’ যুক্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও। কেন্দ্রীয় নীতির কড়া সমালোচনা করে তাঁর তির্যক মন্তব্য, নোটবন্দী থেকে গ্যাস—প্রতিটি পদক্ষেপে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। গরিব মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে ভালোবাসেন মোদিজি। এবার সেই লাইনই হোক জবাবের লাইন—ভোটের বাক্সে।

তবে সভার রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটে বিজেপির টিকিট বণ্টন প্রসঙ্গে। নাম না করেও বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ীর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ওই দলে একটা ভদ্রলোক ছিল, যিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। তাকেই টিকিট দেওয়া হয়নি। তারপরেই তাঁর সোজাসাপ্টা আক্রমণ—ওই এক জন ছাড়া বাকিরা সবাই পাতাখোর ও নেশাখোর। এই মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তেই চর্চার ঝড় ওঠে রাজনৈতিক অন্দরে।
উন্নয়ন প্রশ্নেও বিজেপিকে চাপে ফেলতে ছাড়েননি তিনি। জাতীয় সড়ক, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক প্রকল্প নিয়ে মুখ না খোলার অভিযোগ তুলে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে সরাসরি নিশানা করেন।
তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ ও তপনের প্রার্থী চিন্তামণি বিহার সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণাত্মক ভাষণ স্পষ্ট করে দিল—ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক তাপমাত্রা, আর সেই লড়াইয়ে ভাষার ধারও হচ্ছে ক্রমশ তীক্ষ্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *