, বালুরঘাট, ১৪ জুলাই ——- ভাগাড়েও মিলছে বৈধ ব্যালট! শুক্রবার সকাল থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকে। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌছে প্রায় ৪২ টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার নদীর পাড় থেকে ব্যালট পেপার উদ্ধার হওয়ার পর শুক্রবার ফের ভাগাড় থেকে এই ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা কুমারগঞ্জ ব্লকে।
জানা যায়, কুমারগঞ্জের ধাদলপাড়ায় অবস্থিত পঞ্চায়েতের আবর্জনা ফেলার ভাগাড়েই এদিন বেশকিছু ব্যালট পেপার লক্ষ্য করেন সেখানকার কর্মীরা। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় মানুষজন সহ বেশকিছু নেতৃত্বরাও। যেখানেই লক্ষ্য করা যায় আবর্জনায় ফেলে দেওয়া ব্যালট পেপারগুলির বেশিরভাগই বৈধ। যাদের অধিকাংশ তেই বিজেপির সিম্বলে ছাপ মারা রয়েছে। যাকে ঘিরেই উস্কে উঠেছে প্রশ্ন? তবে কি ইচ্ছে করেই বিরোধী চিহ্নে ছাপ মারা ওইসব ব্যালট পেপার ফেলে দেওয়া হয়েছে? যদিও বিজেপির অভিযোগ ভোটবাক্সে দেওয়া মানুষের রায়কে এরা হরণ করেছে। যে কারনেই কখনও নদীর ধারে, কখনও নদীতে ফেলা জালে এবং কখনও ভাগাড়ে মিলছে মানুষের দেওয়া বৈধ ভোট। একই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন এলাকার সাধারণ বাসিন্দারাও। তাদের অভিযোগ, এভাবে ব্যালট পেপার সর্বত্র পড়ে থাকা মানেই লাগামহীন দুর্নীতি হয়েছে এই পঞ্চায়েত নির্বাচনে। যদিও এসব ঘটনা পুরো নাটক চলছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি হার মেনে নিতে না পেরেই বিজেপি এসব করে বেড়াচ্ছে।
মনোজিত কিস্কু নামে ভাগাড়ের এক কর্মী বলেন, গণনাকেন্দ্রের যাবতীয় আবর্জনা প্ল্যাস্টিকের বস্তা ভরে ফেলা হয়েছিল। তার মধ্যেই এসব ছিল। পুলিশ এসে যেসব বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছে। এর বাইরে তাদের কিছুই জানা নেই।
মানিক মন্ডল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তারাও অবাক হচ্ছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে এভাবে ব্যালট পেপার উদ্ধারের বিষয় নিয়ে। তৃণমূল ও প্রশাসনের যৌথ দুর্নীতির জেরেই এসব বেরিয়ে আসছে। মানুষের দেওয়া রায় ফলপ্রসূ হয়নি এবারের নির্বাচনে।
বিজেপি নেতা মানস সরকার বলেন, নির্বাচনের নামে গণতন্ত্র কে হত্যা করেছে এই সরকার। আর যার কারনেই কখনও নদীর পাড়ে, কখনও জালে, আবার কখনো ভাগাড়ে পাওয়া যাচ্ছে ভোটারদের বৈধ ব্যালট পেপার।
তৃণমূল নেতা সুভাষ চাকি বলেন, মানুষের রায় এরা মেনে নিতে না পেরে সুকান্তর নেতৃত্বে এসমস্ত নাটক করছে বিজেপি। এসব বন্ধ হওয়া উচিত।

