বালুরঘাট, ১৪ নভেম্বর —— ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যু—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তাল বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল। রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এক মৃত্যুর পর ভোর হতে না হতেই হাসপাতাল চত্বর জুড়ে ক্ষোভ, কান্না আর উত্তাপ। শান্তি কলোনির ২৬ বছরের যুবক রাহুল সিংয়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে অভিযোগ—‘ভুল ইঞ্জেকশনেই প্রাণ গেল ছেলের!’
বৃহস্পতিবার লিভারজনিত অস্বস্তি নিয়ে রাহুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, রাত ১০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক কথা বলছিলেন রাহুল। হাসিমুখেই বিদায় জানিয়েছিলেন আত্মীয়দের। কিন্তু পরের দিন সকালে হাসপাতালের বিছানায় একই যুবক নিথর! কীভাবে? কেন?—এই প্রশ্নের উত্তর আজও নেই পরিবার বা আত্মীয়দের কাছে। তাই তাঁদের অভিযোগ—চিকিৎসার নামে অমানবিক গাফিলতি। ভুল ইঞ্জেকশনেই মৃত্যু হয়েছে তার।
অভিযোগের তির হাসপাতালের দিকেই। পরিবারের ক্ষোভ, “হাসপাতালে ভর্তি করার সময় মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছিল। রাতের মধ্যে কোনও মুহূর্তে যদি অবস্থা খারাপ হয়, আমাদের জানানো তো দূরের কথা—একটিও ফোন করা হয়নি!”
শুক্রবার সকালে মৃতদেহ দেখে ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাগে ফেটে পড়লেন পরিজনরা। চোখে জল, গলায় আগুন। হাসপাতাল সুপারের অফিসের সামনে রীতিমতো বিক্ষোভে সরগরম হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য শঙ্কর সিংহের কথায়, “রাতে একেবারে ঠিকঠাক ছিল। সকালে এসে দেখি লাশ। ভুল ইনজেকশন ছাড়া এমন মৃত্যু অসম্ভব। আমরা এর বিচার চাই, দায়ী চিকিৎসকের কড়া শাস্তি চাই।”
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চিকিৎসা মহলেও। প্রশ্ন উঠছে—রাহুলের অবস্থার হঠাৎ অবনতি হল কেন? কেন পরিবারকে খবর দেওয়া হল না? তিনি কি ঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেয়েছিলেন?
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস জানান, “রোগীটি লিভারজনিত সমস্যায় ভর্তি ছিলেন। তবে রাতে অসুস্থ হওয়ার পরও পরিবারকে খবর না দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, তাঁর কাছে অভিযোগ না এলেও হাসপাতাল সুপারের কাছে পরিবার অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
বর্তমানে রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ও রহস্যের আবহ। হাসপাতালের ভূমিকায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। ভুল চিকিৎসা, অবহেলা নাকি অন্য কোনও কারণ—পরিবারের ক্ষোভের মাঝে সেই উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।
বালুরঘাটের বুকে এক যুবকের আকস্মিক মৃত্যু এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—আর সেই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
রাহুলের মৃত্যু—দুর্ভাগ্য, নাকি ভয়ংকর অবহেলা?

