রানিং মেম্বারের স্বামী বিনা চিকিৎসার কারণে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য। বংশীহারী ব্লকের গাংগুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বহড়াইল এলাকার ঘটনা। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে ব্লক সভাপতিও।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী ব্লকের গাংগুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বহড়াইল এলাকার এক ব্যক্তি নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় শনিবার ভোট তিনটা নাগাদ সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে বলে অভিযোগ । পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ব্যক্তির নাম ব্রজেন মাহাতো (৫০)। পেশায় তিনি বিগত ২৫ বছর ধরে ট্রাক্টর চালক হিসেবে কাজ করেন। তার স্ত্রী তৃণমূলের বহড়াইল গ্রাম পঞ্চায়েতের মেম্বার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জানা গিয়েছে বিগত ১৬, ১৭ দিন আগে থেকে প্রচন্ড জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। প্রথমত তাকে রশিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রশিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর সেই রোগীকে উন্নত মানের চিকিৎসা করবার জন্য রেফার করেন গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। দৌলতপুরের বাসিন্দা ব্রজেন মাহাতোর আত্মীয়রা ০১/০৯/২০২৪ তারিখে তাকে নিয়ে যায় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। মালদা মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা ওই অসুস্থ ব্যক্তিকে ভর্তি নিতেই অস্বীকার করেন। অসুস্থ রোগীর আত্মীয়রা রোগীকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করলেও ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা অসুস্থ রোগীকে ভর্তি হতে দেননি। বাধ্যতামূলক রোগীর আত্মীয়রা রোগীকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। বিগত ১৪ দিন বাড়িতে থাকার পর শনিবার ভোর তিনটা নাগাদ বাড়িতেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। প্রশ্ন উঠে আসছে তৃণমূলের রানিং মেম্বারের স্বামী চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু মেম্বারের স্বামীর। তাহলে সাধারণ মানুষরা সঠিক চিকিৎসা পাবে কিভাবে! এ নিয়ে ক্ষোভ উগ্রেছেন ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে মৃতের পরিবারের দুই আত্মীয় সুনীল মাহাতো ও রবিন মাহাতোরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, আমাদের পরিবারের এক সদস্য কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন, এরপরে আমরা প্রথমে রশিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করে। সেখান থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমরা মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। মালদা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা আমাদের রোগীকে ১,০৯,২৪ তারিখে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে, এরপরে আমরা কাকুতি মিনতি করার পরেও তারা সেখান থেকে আমাদের ফেরত পাঠায় এরপর বাড়িতে নিয়ে আসার ১৪ দিন পরেই আমাদের রোগী মারা যায়, আমরা মনে করছি মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণে আমাদের রোগী মারা গেছে,আমাদের রোগীকে ভর্তি নিলে সে আজ বেঁচে থাকতো।

