বালুরঘাট, ২৬ জুন ——— বাঙালি মানেই পেটুক, সে ফুটপাতেই হোক বা হাইওয়ের ধার । সবেতেই খাবার লাইন । কোনো ঝাঁ চকচকে রেঁস্তোরা অথবা রেস্টুরেন্ট সবক্ষেত্রেই ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ে । তবে দিনদিন রান্না ঘরের হেঁসেল ছেড়ে তাঁদের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠছে বাইরের দোকানের খাবার । তা ছোট বড় যে কোন অনুষ্ঠান হোক বা বিকেলের আড্ডা সবেতেই রেস্টুরেন্ট নির্ভর হয়ে উঠছেন অনেকেই । আর এমন খাবার খেয়ে তাঁরা যাতে সুস্থ থাকেন সেই দিকটি নিশ্চিত করতে ময়দানে নামলো ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর । এদিন বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকানে আচমকা হানা দেয় দপ্তরের কর্মীরা । লিগাল মেট্রলজি ইন্সপেক্টর ও খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফাস্টফুডের দোকানে গিয়ে গিয়ে খাবারের গুণগত মান, ফুড লাইসেন্স সহ একাধিক বিষয় দেখা হয়েছে । তবে বেশকিছু দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার সামগ্রী রাখার বিষয়ও সামনে এসেছে এদিন । দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা কার্যত পচা বেশকিছু খাবার সামগ্রী ফেলে দেওয়া হয়েছে অভিযানের মাধ্যমে ।
বুধবার দুপুরে বালুরঘাট শহরের চকভৃগু, ডানলপ মোর, মঙ্গলপুর সহ বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকান, ফাস্টফুডের দোকান সহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা । তাদের সঙ্গে এনফোর্সমেন্ট ব্রঞ্চের পুলিশ প্রশাসনও উপস্থিত ছিলেন। বেশকিছু ক্ষেত্রে মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে ফাস্টফুডের দোকানের পরিচ্ছন্নতা, খাবারের মান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা । যেখান থেকে সাধারণ মানুষদের সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হয়েছে । স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সবকিছু যাচাই করে খাবার খেতে ও কেনার পরামর্শ দেন তাঁরা । শহরের ভেতরে রাস্তার পাশে উন্মুক্ত খাবার রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা। এদিন কিছু দোকানের ওজন মাপার যন্ত্রের গরমিল থাকায় সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক মনোজিৎ রাহা জানান, ‘আমাদের জেলার কনজুমার প্রোটেকশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জেলা শাসক। তার নির্দেশে এই অভিযান। হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে হতাশাজনক ফল মিলেছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ফ্রিজারে পচা মাল, রান্নাঘরে পুরনো খাদ্য সামগ্রী রাখা রয়েছে। কিছু দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্য পেয়েছি। আমরা তা ফেলে দিয়েছি। এদিন তাদের সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তী হানায় জরিমানা করা হবে। অভিযান আগামী দিনেও জেলা জুড়ে চলবে।’

