শিশু দিবসকে সামনে রেখে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) আয়োজন করল এক অনন্য,আবেগঘন ও মানবিক উদ্যোগ।শিলিগুড়ি জংশন থেকে রংটং পর্যন্ত অটিস্টিক ও দৃষ্টিহীন শিশুদের নিয়ে বিশেষ টয় ট্রেন যাত্রার আয়োজন করা হয় বৃহস্পতিবার।পাহাড়ি রেলপথ জুড়ে এদিন ভেসে উঠেছিল ছোট ছোট মুখের উচ্ছ্বাস-যেন ঐতিহ্যের রেললাইনকে ছুঁয়ে গেল মানবিকতার সবচেয়ে সুন্দর রং।সকাল থেকেই শিলিগুড়ি জংশনে ছিল উৎসবের আবহ।প্ল্যাটফর্ম ভরে ওঠে রঙিন বেলুন,হাসিখুশি শিশু,সংগীত আর অভিভাবকদের উচ্ছ্বাসে।সকাল ১১টায় ট্রেনটি যাত্রা শুরু করলে পাহাড়ের প্রতিটি বাঁক,সুরঙ্গের আলো-ছায়া,অরণ্যের সবুজ সৌন্দর্য-সবই শিশুদের কাছে হয়ে ওঠে চমকে ভরা এক নতুন অভিজ্ঞতা।কেউ জানালা দিয়ে বাতাস ছোঁয়ার চেষ্টা করছে,কেউ আবার ট্রেনের শব্দে নেচে উঠছে-প্রতিটি কামরাই যেন পরিণত হয়েছিল আনন্দের উৎসে।এই বিশেষ যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম (ACT)-এর কনভেনার রাজ বসু এবং ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট অতিথি।ঋষভ চৌধুরী বলেন,“ডিএইচআর শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি নয়,এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগের এক পরিবহন।বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য এই যাত্রা আয়োজন আমাদের কাছে গর্বের।প্রতিটি শিশুর হাসিই আমাদের প্রকৃত পুরস্কার।”ইউনিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শক্তি পাল জানান,“এই শিশুদের অধিকাংশই আগে কখনও টয় ট্রেনে ওঠেনি।আজ তাদের আনন্দই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”এদিনের এই আয়োজনের পাশাপাশি ১৩থেকে ১৫ই নভেম্বর পর্যন্ত শিশু দিবস উপলক্ষে ডিএইচআর রেখেছে নানা কর্মসূচি।১৩ই নভেম্বর কার্শিয়াং-এর এলিসিয়া প্যালেসে হয় ‘Iron Sherpa Competition’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল,যেখানে ডিএইচআর ক্যাচমেন্ট এলাকার ১৫জন ছাত্রছাত্রীকে বিচার করা হয় নেতৃত্ব,সৃজনশীলতা ও সমাজসেবার ভিত্তিতে।১৫ই নভেম্বর শুকনা স্টেশনে অনুষ্ঠিত হবে স্টেশন মহোৎসব-সংস্কৃতি,শিল্প ও স্থানীয় হস্তশিল্পের প্রদর্শনী নিয়ে।একই দিনে মহাত্মা গান্ধীর দার্জিলিং সফরের শতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে শতাব্দী মার্চের রংটং-শুকনা পর্ব।মার্চ শেষে রংটং-এর শিশুদের জন্য আরও এক দফা টয় ট্রেন ভ্রমণের আয়োজন করা হবে।ডিএইচআরের এই তিন দিনের অনুষ্ঠান শুধু ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরেনি,বরং পাহাড়ের হৃদয়ে ছড়িয়েছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসার বার্তা।টয় ট্রেনের সেই বিশেষ যাত্রা তাই শুধু শিশু দিবস নয়-পাহাড়ের খুশির দিনও হয়ে রইল।

