হরিরামপুরের গোকর্ণতে মা ও সৎ বাবা মিলে দুবছরের কন্যা সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার -২

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

বালুরঘাট ১৩ অক্টোবর দক্ষিণ দিনাজপুর। মা ও সৎ বাবা মিলে দুই বছরের শিশু কন্যাকে খুন করার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হলো দুজন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানার গোকর্ণ এলাকায়।গত এক অক্টোবরে এমন ঘটনা হলেও প্রথমে তাকে হরিরামপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে ওই শিশুর মৃতদেহের ধরন দেখে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হরিরামপুর থানা পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে দেহটি বালুরঘাটে ময়না তদন্তে পাঠানো হলেও তারা সেই দেহ ময়না তদন্তে রাজি হয়নি।সেখান থেকে মালদা ও পরে শিলিগুড়িতে ওই শিশুর দেহ ময়নাতদন্ত করতে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্তে রিপোর্টে উল্লেখ করে যে, শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। হরিরামপুর থানার পুলিশ মৃতের এক নিকট আত্মীয়র কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেতেই বৃস্পতিবার রাতে মা ও সৎ বাবাকে গ্রেফতার করে পুরো ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ। হরিরামপুর থানার গোকর্ণ গ্রামের মোজাম্মেল হক নামে ওই শিশুর এক আত্মীয় লিখিত অভিযোগ করে জানান,গোকর্ণ গ্রামের বাসিন্দা আঞ্জুরা খাতুন বয়স (২৫)বছর,সে কয়েক বছর আগে এলাকার এক যুবককে বিয়ে করেছিল।সেই সময় তাদের একটি সন্তানও হয়েছিল, যার বর্তমান বয়স দুই বছর।কিছুদিন আগে আঞ্জুরা খাতুনের প্রথম পক্ষের স্বামী মারা যান।পরে সে এলাকারই দিলদার হোসেন ওরফে (টেপু )নামে আফসার আলীর ছেলেকে বিয়ে করে।এরপর থেকেই আঞ্জুরা খাতুন তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী দিলদার হোসেনের বাড়িতে তার প্রথম পক্ষের দুই বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। অভিযোগ, কিছুদিন ভালোভাবে তারা সংসার করলেও দিলদার হোসেন আঞ্জুরার প্রথম পক্ষের মেয়েকে তার সাথে রাখতে রাজি হয়নি।যা নিয়ে দুজনের মধ্যে অশান্তি বলে সূত্রে জানা গেছে। ওই শিশুর আত্মীয় মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন,”দুজনের মাঝে দাম্পত্য জীবনে ওই শিশুটিকে নিয়ে চলছিল অশান্তি।তারা দুজনে মিলে গোপন জায়গায় নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে ওই শিশু সন্তানকে খুন করে অসুস্থ বলে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে নাটক করল।পরে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলে তারা ঘটনার কথা স্বীকারও করেছে বলে দাবি তাদের।” নাম প্রকাশ করতে এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,”শিশু সন্তানকে নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝগড়া লাগতো তাদের পরিবারে। এরমধ্যে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল পুলিশ করা হাতে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেক সেই দাবি জনাই।”
হরিরামপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,”মৃতের ধরন দেখে চিকিৎসক ও আমাদের সন্দেহ হয়েছিল ,তাই অবশেষে মালদার পরে শিলিগুড়িতে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত করে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে খুনের ঘটনা।লিখিত অভিযোগ পেতেই মা ও সৎ বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।” সমাজ কি ধীরে ধীরে নিষ্ঠুর হচ্ছে, মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গা থেকে সেই প্রশ্নই উঁকি মারছে সর্বত্রই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *