গঙ্গারামপুর ২৪জুন দক্ষিন দিনাজপুর ।১৯জন তৃণমূল নেতাকে বহিষ্কার করলেও জেলায় উঠে এসেছে নির্দল হিসেবে একগুচ্ছ তৃণমুল নেতাদের নাম। নজরেই আসল না জেলা তৃণমূল সভাপতির।অবাক হলেন দলের নেতা কর্মীদের একাংশ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্য্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এমন বহিস্কারের কথা জানান তিনি।ঘটনায় উস্কে উঠল জল্পনা। তাহলে কি তাঁরা জেলা তৃণমুল সভাপতি ঘনিষ্ট সেই প্রশ্ন উকি মারছে জেলাজুড়ে।
গত পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী হয়ে জিতে শিষশি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমুলের প্রধান হয়েছিলেন গৃহবধূ অঞ্জনা সরকার। দল আবার তাঁকে তৃণমুলের প্রার্থী করলেও তাঁর স্বামী হরিরামপুর ব্লক তৃণমুলের সহ সভাপতি নকুল সরকারকে পঞ্চায়েত সমিতির আসনে তৃণমূলের হয়ে ভোটে টিকিট দেয়নি দল।রাগে অভিমানে নির্দনে গোলাপফুল প্রতীক চিহ্ন নিয়ে ভোট দাঁড়াতেই তৃণমূল দল থেকে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তাকে বহিষ্কার করল জেলা তৃণমূল সভাপতি।একই সঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর বুকের শিষশি গ্রাম পঞ্চায়তের অঞ্চল যুব তৃণমূল সভাপতি রিন্টু হক চৌধুরী তৃণমুলের টিকিট না পেয়ে নৌকা প্রতীকে ভোটে লড়াই করলেও দল থেকে জেলা তৃণমূলের সভাপতি বহিষ্কার করেনি।যা নিয়েই উঠেছে জল্পনা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃনাল সরকার করে শিষশি গ্রাম পঞ্চায়েতের দানগ্রাম বুথ থেকে গতবারের তৃণমূলের প্রধান অঞ্জনা সরকারকে দলে রেখে গ্রাম পঞ্চায়েতে টিকিট দিলেও স্বামী ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি নারায়ণ সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করল।
২০১৮সালের পঞ্চায়েত ভোটে চেয়ে এবারের ২০২৩সালে পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমুল দলের প্রার্থীপদ নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয় জেলা জুড়ে।এমনকি দল থেকে পদত্যাগ করেন বহু অঞ্চল তৃণমুলের সভাপতি, চেয়ারম্যান সহ একাধীক নেতৃত্বরা।শুধুমাত্র উদয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেই ১৪টি গ্রাম সাংসদের আসনে নির্দলে প্রার্থী দিয়েছিলেন তৃণমুল নেতা কর্মীরা।পরে যদিও কয়েকজন হাতেগোনা প্রার্থী তাঁদের নমিনেশন তুলে নেন।এমনকি বংশীহারীর এক জেলা তৃণমুলের সাধারন সম্পাদক দল ছেড়ে হাত চিহ্নে ভোটে দাঁড়ান।ভোটের নমিনেশন নিয়ে এমন পরিস্থতি শুরু হয় যে,জেলা পরিষদের এক সময়ের সভাধিপতি তথা বর্তমানে সহকারী সভাধিপতি ললিতা টিক্কাকে তপনের একটি আসন থেকে টিকিট দেওয়ায় তিনি সেখান থেকে নমিনেশন জমা দেননি বলে খবর। হরিরামপুরে ব্লক তৃণমুলের সহ সভাপতি তাঁর শিরষি গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকা থেকে পঞ্চায়েত সমিতির আসনে নকুল সরকারকে দল টিকিট না দেওয়ায় গোলাপফুল নির্মূল প্রতীকে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।একি গ্রাম পঞ্চায়েতের যুব তৃণমুলের অঞ্চল সভাপতি রিন্টু হক চৌধুরী দলের টিকিট না পেয়ে সে নৌকা প্রতীকে ভোটে দাঁড়িয়ে তিনি যে দলবিরোধী কাজ করেছেন সেকথা জানেন না জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃনাল সরকার বলে স্বীকার করেছেন।
গঙ্গারামপুরে তৃণমুল নব জোয়ার কর্মসূচী করতে এসে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কামান অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ঘোষনা করেছিলেন যারা নির্মূলে প্রার্থী হয়ে ভোটে জয়লাভ করলেও তাঁদের আর দলে নেওয়া হবে না। তাঁর পরেও কেন দল বিরোধী কাজের জন্য জেলা তৃণমূল সভাপতি বাকি জেলাস্তরের বহু নেতাদের বহিষ্কার করল না তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এবিষয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃনাল সরকার অবশ্য অন্যায়ের কিছু দেখছেন না।তিনি বলেন স্বামী একদল করেন আর স্ত্রী অন্যদল করতেই পারেন। তাই নির্দল প্রার্থী হওয়ায় দল বিরোধী কাজের জন্য অঞ্জনা সরকারের স্বামী নকুল সরকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রিন্টু হয়ত দলের কাজে ক্ষমতা চেয়েছেন তাই তাঁকে দল থেকে বের করা হয়নি।
জেলা বিজেপির সম্পাদক অশোক বর্ধন বলেন, তৃণমূল যত বহিষ্কার করবে আমাদের দলের ততই সুবিধা হবে।তৃণমুল শুধু আমাদের নয় ওরা নির্দল প্রার্থীকেও ভয় পেয়ে এমন কাজ করছে। অনেককেই প্রশ্ন তুলেছেন ঘটনায় উচ্চে উঠল জল্পনা।তাহলে কি তাঁরা জেলা তৃণমূল সভাপতি ঘনিষ্ট সেই কারনেই তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হয়নি সেই প্রশ্নই উকি পারছে জেলাজুড়ে।

