বালুরঘাট,১৬ অক্টোবর দক্ষিণ দিনাজপুর:
হরিরামপুর ব্লকের বাগিচাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুকরাকুড়ি এলাকায় অবস্থিত জাকিয়া অনাথ আশ্রমে থাকা এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। ওই অনাথ আশ্রমে নয় বছরের কিশোর মোস্তাফিজুর রহমানের মুখের ভিতরে হঠাৎ একটি বড় টিউমার হয়। দিনদিন টিউমারটি আকারে বেড়ে যাওয়ায় কিশোরটি খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলতেও অসুবিধা অনুভব করছে। ফলে আশ্রমে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ।
জানা গিয়েছে, হরিরামপুরের একটি অনাথ আশ্রমের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় হরিরামপুর ব্লকের বাগিচাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও তার স্বামীর নজরে আনেন। খবর পেয়ে পঞ্চায়েতের প্রধান মৌমিতা পারভীন ও তার স্বামী ,স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী আরিফ ইসলাম ও সদস্য খাসেদূর রহমান কিশোরটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করেন। পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের তরফে ঘোষণা করা হয় যে, ওই অনাথ কিশোর “মোস্তাফিজুরের চিকিৎসা ও প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের সমস্ত ব্যয় আমরা ব্যক্তিগতভাবে বহন করব। যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হবে।”
বেশ বছর আগে হরিরামপুরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্কার তরফে অনাথ আশ্রমটি গড়ে ওঠে।বর্তমানে প্রায় ৩০০ অনাথ শিশু সেখানে বসবাস করছে। প্রায় ১২জন শিক্ষক ও কর্মী নিয়মিতভাবে তাঁদের শিক্ষা ও যত্নের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।এলাকার দরিদ্র ও অনাথ শিশুদের কাছে এই প্রতিষ্ঠানটি এক আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
কিশোরটি চিকিৎসায় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের এই উদ্যোগে সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, পঞ্চায়েতে প্রতিনিধিদের সহায়তা ও অনাথ আশ্রম কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় মোস্তাফিজুর খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে।
বাগিচাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী আরিফ ইসলাম,”বিষয়টির খবর পেতেই মানবিক কারনেই ওই কিশোরটির পাশে দাঁড়ানো হয়েছে।তাকে সুস্থ করার দায়িত্ব নিয়েছি আমরা।”
স্থানীয় অনাথ আশ্রমের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন,”পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা যেভাবে আমাদের অনাথ আশ্রমের অসুস্থ কিশোরের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাই।” পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের এমন মানবিক কারনে ওই অনাথ আশ্রমের কিশোরের পাশে দাঁড়ানোয় সকলেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।

