টিউবয়েল ঘিরে দখলদারি কান্ডে তোলপাড় বালুরঘাটের মঙ্গলপুর! পুলিশি পাহারায় নতুন টিউবয়েল বসালো পুরসভা

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

বালুরঘাট, ১ সেপ্টেম্বর ——- টিউবয়েলের জায়গা দখলকে ঘিরে বিতর্ক! পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দখলদারি মুক্ত করে নতুন টিউবয়েল বসালো পুরসভা। সোমবার বিকেলে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বালুরঘাট শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলপুর এলাকায়। জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ভরসার টিউবয়েল হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত দখলের আওতায় চলে যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনায় ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সেই প্রেক্ষিতেই পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দখলমুক্তির অভিযান চালায় বালুরঘাট পুরসভা। চেয়ারম্যান অশোক মিত্র নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্দেশ দেন, ঘেরাও ভেঙে নতুন টিউবয়েল বসানো হোক। যাকে ঘিরেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয় এলাকায়। বাড়ি মালিক অর্পিতা সোম ঘোষের অভিযোগ, তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আইনকে অমান্য করে পুরসভা রীতিমতো দাদাগিরি দেখিয়ে ওই জায়গা দখল করেছে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে চেয়ারম্যানের দাবি জনগনের অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে আইন মোতাবেক কাজ করেছে পুরসভা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই টিউবয়েল ছিল এলাকার একমাত্র পানীয় জলের উৎস। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এলাকারই এক পরিবার মানবিক কারণে সামান্য জমি পুরসভার হাতে তুলে দিয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষ পানীয় জলের সুবিধা পেতে পারেন। দশকের পর দশক ধরে সে টিউবয়েল ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে মঙ্গলপুরবাসীর জীবন। কিন্তু পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছনোর ফলে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায় পুরনো সেই টিউবয়েলটি। আর ঠিক সেই ফাঁক গলেই জায়গাটি ফের নিজেদের দখলে নিতে চান বাড়ির মালিক অর্পিতা সোম ঘোষ। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে টিউবয়েলের চারপাশে ঘেরাও দিয়ে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করতে চাইছিলেন তিনি।

এই নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল এলাকায়। অবশেষে সোমবার পুরসভার চেয়ারম্যান, স্থানীয় কাউন্সিলর, এক্সিকিউটিভ অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার ও পুলিশ বাহিনী হঠাৎ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করেন সেই জায়গা। পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় বসানো হয় নতুন টিউবয়েল। চেয়ারম্যান অশোক মিত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জনগণের অধিকারের সঙ্গে কোনও আপস নয়। এই জায়গা ব্যক্তিগত মালিকানার নয়, বরং জনগণের প্রয়োজনে ব্যবহৃত। তাই আইন মেনেই ব্যবস্থা নিয়েছে পুরসভা।”

এলাকার বাসিন্দা দিলীপ মালাকার বলেন, ৬০ বছরেরও বেশি পুরনো এই টিউবয়েলটি। কিন্তু হঠাত করে ওই জায়গার মালিক তা ঘিরে নেওয়ায় তারা পুরসভার দ্বারস্থ হন। এদিন পুরসভা তা দখলমুক্ত করে নতুনভাবে টিউবয়েল বসিয়েছে।

বাড়ি মালিক অর্পিতা সোম ঘোষ বলেন, তাদের বাড়িতে না থাকবার সুযোগ নিয়ে আইন অমান্য করে পুরসভা রীতিমতো দাদাগিরি দেখিয়ে একাজ করেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পুরসভার বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

ফলে এখন মঙ্গলপুর বাসী নতুন টিউবয়েল পেলেও বিতর্ক থামে নি। আদালতের রায়েই নির্ধারিত হবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে কারা, জনস্বার্থ না ব্যক্তিস্বার্থ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *