প্রণাম না গোপন সমর্থন! বিজেপি বিধায়কের পা ছুঁয়ে বিদ্রোহী নেতার নমিনেশন, তোলপাড় বালুরঘাট

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

বালুরঘাট, ৪ এপ্রিল —– ভোটের মরশুমে নাটক নতুন নয়, কিন্তু এমন দৃশ্য—যেখানে আনুগত্য আর বিদ্রোহ একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেয়—তা সত্যিই বিরল। শনিবার বালুরঘাটে সেই বিরলতারই সাক্ষী রইল রাজনৈতিক মহল। একদিকে দলীয় বিধায়কের পায়ে প্রণাম, অন্যদিকে সেই দলকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই—এসটি মোর্চার জেলা সভাপতি সুশীল মার্ডির এই দ্বৈত অবস্থান ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে জেলায়।

নমিনেশন কেন্দ্রের বাইরে তখন রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘনঘটা। কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, স্লোগানের গর্জন—তার মাঝেই আচমকা দেখা যায়, সুশীল মার্ডি এগিয়ে গিয়ে প্রণাম করছেন দলেরই এক শীর্ষ নেতাকে। প্রণামের পর বিধায়কের পিঠ চাপড়ে ‘সাবাশি’ দেওয়ার দৃশ্যও নজর এড়ায়নি কারও। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে জল্পনা—এ কি নিছক সৌজন্য, না কি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে গভীরতর বার্তা?
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনা নিছক ব্যক্তিগত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দলের অন্দরের অসন্তোষের এক প্রতীকী প্রকাশ। বিশেষ করে যখন সেই প্রণামের পরই প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে নির্দল লড়াইয়ের বার্তা দেন সুশীল, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—বিজেপির ঘরে কি তবে ফাটল ক্রমশ প্রশস্ত হচ্ছে?
যদিও সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলেছেন সত্যেন্দ্রনাথ রায়। তাঁর সাফাই, নির্বাচন সংক্রান্ত একটি সমস্যার জন্য জেলাশাসকের দফতরে গিয়েছিলাম। আমি দলের সিনিয়র নেতা, তাই অনেকে প্রণাম করেন। সুশীলও সেই কারণেই প্রনাম করেছে। একইসঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসী দাবি, এই ঘটনা বিজেপির ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলবে না—মানুষ পদ্মফুলের সঙ্গেই রয়েছে।

কিন্তু সুশীল মার্ডির কথায় অন্য সুর। তাঁর অভিযোগ, বালুরঘাটে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরেই তীব্র ক্ষোভ জমে উঠেছে। সেই ক্ষোভের মুখ হিসেবেই আমি লড়াইয়ে নেমেছি, বলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর গলায় চ্যালেঞ্জের সুর—মানুষ পরিবর্তন চাইছে, জয়ের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

এর মধ্যেই নতুন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে—নিজের কোনও নমিনেশন না থাকা সত্ত্বেও কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নমিনেশন কেন্দ্রের বাইরে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক? নিছক কাকতালীয়, না কি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উপস্থিতি?
দলের তরফে এখনও নীরবতা বজায় থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত। প্রণামের সেই ক্ষণিক দৃশ্য এখন যেন হয়ে উঠেছে বড় রাজনৈতিক ধাঁধা—শ্রদ্ধা, না কি সূক্ষ্ম বিদ্রোহের সংকেত? বালুরঘাটে এখন সেই প্রশ্নেই উত্তাল চর্চা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *