গঙ্গারামপুর 18 মে দক্ষিণ দিনাজপুর :————––কুখ্যাত ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম নিষিদ্ধ ড্রাগস ও ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তাকে কেন শুধু পিস্তলের ধারা দেওয়া হল তানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতিবিদরা। ঘটনার বিষয় নিয়ে অপরাধীর এক সহ কর্মী গ্রেপ্তার হবার পরে আরো কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন তৃণমূল, সিপিএম থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারাও। তাহলে কি এর পিছনে সর্ষের মধ্যেই রয়েছে ভূত, সেই প্রশ্নতেই সরব হয়েছেন সকলেই। বিজেপি থেকে শুরু করে বহু সংগঠন আন্দোলনে নামছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ বলছে নির্দিষ্ট ধারাই মামলা হচ্ছে, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে।
বুনিয়াদপুরে শহরবাসীর অভিযোগ, বুনিয়াদপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপল্লী এলাকা ব্রাউন সুগারের ব্যবসার স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে বহু দিন আগে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বাসিন্দাদের আরো অভিযোগ, নেশা আসক্ত যুবকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বুনিয়াদপুর শহর এলাকার বাসিন্দারা বলে দাবি তাদের। এলাকার প্রায় অনেক বাড়িতেই বিভিন্ন রকমের সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠছিল বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। প্রশাসনকে বহুবার জানিও কোন লাভ হয়নি বল দাবি তাদের। কিছুদিন আগেই নেশার টাকা না পেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক যুবক আত্মঘাতী হয়েছিল বলে জানা গিযেছে। তারপর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে বংশীহারী থানার পুলিশ। কিছুদিন আগেই কুখ্যাত ব্রাউন সুগার ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ী শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে বংশীহারী থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশ দাবি করে তার কাছে একটি পিস্তলই পাওয়া গেছে। কোন নেশার জিনিস পাওয়া যায়নি। তার কিছুদিনের মধ্যেই তার ছায়া সঙ্গী পুচু সরকারকে এনডিপিস ক্যাশে গ্রেফতার করে সেই বংশীহারী থানার পুলিশ । এলাকার বাসিন্দাদের দাবি পুলিশ প্রশাসন অতি দ্রুত এই ব্রাউন সুগার ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। রাজনীতিবিদদের অভিযোগ কুখ্যাত ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম নিষিদ্ধ ড্রাগস ও ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তাকে কেন শুধু আর্মস ক্যাশ দেওয়া হল টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতিবিদরা। ঘটনার বিষয় নিয়ে তারি এক সহ কর্মী গ্রেপ্তার হবার পরে আরো কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন তৃণমূল, সিপিএম থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারাও। তাহলে কি এর পিছনে সর্ষের মধ্যেই রয়েছে ভূত, সেই প্রশ্নতেই সরব হয়েছে সকলেই। বিজেপি থেকে শুরু করে বহু সংগঠন আন্দোলনে নামছে কুখ্যাত ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামকে নিষিদ্ধ ড্রাগস ও ফেনসিডিল ব্যবসায় বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবার উদ্দেশ্যে।
এবিষয়ে এক এলাকাবাসী উত্তম চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে জানিয়েছেন, পুচু সরকার বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপল্লী এলাকায় বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের হাতে ব্রাউন সুগার দিয়ে তাদের নেশায় আসক্ত করছিল বলে জানা যায়। শুনলাম গত কয়েকদিন আগে ব্রাউন সুগার ব্যবসায়ী শরিফুলকে গ্রেপ্তার করেছিল বংশীহারী থানার পুলিশ। কিন্তু তাকে পিস্তলের ধরা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এমন ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তার ছায়া সঙ্গী ফুচু সরকারকেও বুধবার গ্রেফতার করে পুলিশ। ধন্যবাদ জানাই পুলিশ প্রশাসনকে। পুলিশের কাছে আমাদের একটাই আবেদন এ ধরনের নেশার দ্রব্য যারা বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এবিষয়ে বিজেপির জেলা অফিস সেক্রেটারি সঞ্জীব দাস ও সিপিএম নেতা শুকুরুদ্দিন আহম্মেদেরা জানিয়েছেন , আমরা এর আগেও বংশীহারী থানায় নিষিদ্ধ হিরোইন বিক্রির বিরুদ্ধে ডেপুটেশন দিয়ে এসেছি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য। ড্রাগস ও ফেনসিডিল ব্যবসার মূল পান্ডা শরিফুল। কিন্তু সেই শরিফুলকে পুলিশ ছোট ধারায় মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে কিন্তু সে যে বহুদিন ধরেই নিষিদ্ধ ব্যবসা করে তার কেনো মামলা দিল না সেই কথাটি এক মাত্র পুলিশই বলতে পারবে। আমাদের কাছে যা খবর আছে বিগত কয়েক বছর ধরে এরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের ব্যবসা করছে। সেই কারণেই হয়তো পুলিশ শরিফুলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। যে মূল ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে পুলিশ যদি এনডিপিএস মামলা কেন দেওয়া হল না আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
এই বিষয়ে বুনিয়াদপুর পৌরসভার চেয়ারপারসন অখিল চন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন যখন সবাই বলছে শরিফুল ব্রাউন সুগার ও ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাহলে আমরা বলব পুলিশ এই কুখ্যাত ব্যবসায়ী শরিফুলের উপরেও এনডিপিএস ধারায় মামলা দেওয়া দরকার ছিল। তা না হলে এরা বুনিয়াদপুর শহরটিকে নেশাগ্রস্ত করে তুলবে।
এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ব্রাউন সুগার ব্যবসায়ী শরিফুলের ছায়া সঙ্গী ফুচু সরকারকে আমরা গোপন খবরের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। আগামীতেও আমাদের এই ধরনের অভিযান চালু থাকবে। বংশীহারী থানা পুলিশের নামে কেন উঠছে এত অভিযোগ তা নিয়ে সকলেই প্রস্তু তুলেছে ।

