বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই নৃশংস ভাবে খুন তপনের মহিলা । ট্রাক্টরের রোটাভেটারে ফেলে কিভাবে খুন করা হয়েছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণে দেখালো সাদ্দাম । নিজের দোষ স্বীকার করে পুলিশের সামনে ভেঙ্গে পড়ল অভিযুক্ত

উত্তরবঙ্গ কলকাতা খেলা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

তপনের নৃশংস খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ । উদ্ধার টুকরো টুকরো দেহাংশ, মাথার চুল ও গৃহবধূর পোশাক । সোমবার তপন ব্লকের রামচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতের কালীনগর এলাকায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে যায় পুলিশ । যেখানে হাজির ছিলেন তপন থানার আইসি জনমারি ভিয়ান্নে লেপচা, বিডিও তীর্থংকর ঘোষ সহ পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা । তবে এই পুনর্নির্মাণের আগে থেকেই কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল এলাকা । প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় তপনের রামচন্দ্রপুর এলাকার কালী নগর গ্রামের একটি পাট ক্ষেতের পাশের জমি থেকে উদ্ধার হয় মানুষের শরীরের শিরদাঁড়া ও পায়ের পাতার কিছু অংশ । যেখানে উদ্ধার হয়েছিল একটি জুতো । প্রথম অবস্থায় সেগুলি অপরিচিত কারো দেহাংশ বলে জানা গেলেও পরবর্তীতে সামনে আসে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা । পুলিশ জানতে পারে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরের পশ্চিম নিমপুর গ্রামের গৃহবধু সুলেখা খাতুন চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে । যা নিয়ে পরিবারের লোকেরা থানায় কোন নিখোঁজ ডাইরি করেনি । এদিকে পাটক্ষেতের পাশ থেকে দেহাংশ উদ্ধারের এমন ঘটনার খবর পেয়ে নিখোঁজ সুলেখা খাতুনের পুত্র ঘটনা স্থলে পৌছে পরে থাকা জুতো দেখে শনাক্ত করে সেটি তাঁর মায়ের দেহ । এর পরেই ওই এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে বেশকিছু হাড়গোড় । যে সুত্র ধরেই পুলিশ জানতে পারে ওই দেহাংশগুলি সুলেখা খাতুনের । কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে কালীনগর এলাকার ওই পাট ক্ষেতে তাঁর দেহ কিভাবে এসে পৌছালো বা কেনই তাঁকে টুকরো টুকরো করে খুন করা হল তা নিয়েই তৈরী হয়েছিল প্রশ্ন । যার পরেই পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে তারট গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে । পুলিশি জেরায় সাদ্দাম স্বীকার করেন সুলেখাকে খুন করার কথা । তিনি জানান, মৃত সুলেখার সাথে তাঁর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল । যা নিয়েই সুলেখা তাঁকে বারবার চাপ দিচ্ছিল । ১৯ শে জুন সাদ্দাম জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল দেবার সময় তাঁর সাথে দেখা করতে সেখানে হাজির হয় সুলেখা, চলে তাঁদের মধ্যে বাদানুবাদও । এরপরেই সুলেখাকে রোটাভেটারে ফেলে খুন করে সাদ্দাম । যার ফলে মৃত সুলেখার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে যায় এলাকায় । এদিন পুনর্নির্মাণের সময় যে ঘটনা পুলিশকে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কার্যত ভেঙ্গে পড়ে সাদ্দাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *