বালুরঘাট, ১ আগষ্ট —-— বেহাল রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগের জেরে একমাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ জেলার একমাত্র রেক পয়েন্ট। হুশ নেই রেল কতৃপক্ষের। সমস্যায় জেরবার অবস্থা ব্যবসায়ীদের। সাংসদ কোথায় ? প্রশ্ন তুললেন মন্ত্রী। দক্ষিন দিনাজপুর জেলার রামপুর বাজার স্টেশনের বেহাল রেক পয়েন্ট নিয়ে রেলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগড়েছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে এই ঘটনা জানতে পেরে রেলদপ্তরকে একটি চিঠি দিয়েই নিজের দায় এড়িয়েছেন বালুরঘাট কেন্দ্রের সাংসদ তথা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
জানা গেছে প্রায় একবছর আগে রেলের তরফে কার্যত ঢাকঢোল পিটিয়ে এই রামপুর বাজার স্টেশনেই চালু করা হয়েছিল জেলার একমাত্র রেক পয়েন্টটি। যেখানে সপ্তাহে তিনদিন সিমেন্ট ও রেপসিড নিয়ে ৪২ বগির মালবাহী ট্রেন এসে দাঁড়ায়। আর যে মালগুলিই শয়ে শয়ে লরির মাধ্যমে জেলা ও প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পৌঁছে যায়। কিন্তু দীর্ঘ বেশকিছুদিন ধরে রামপুর বাজার স্টেশনের সেই রেক পয়েন্ট থেকে মেইন রাস্তায় উঠবার প্রায় দুশো মিটার রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যে রাস্তা দিয়ে মালবোঝাই লরিগুলি নিয়ে আসতে গিয়ে বহুবার খেসারত গুনেছেন লরি মালিকরা। আর যা নিয়েই রেলদপ্তরকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন লরি ব্যবসায়ীরা। লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বালুরঘাট ট্রাক অনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও। কিন্তু তাতেও কোন কর্নপাত করেনি রেল কতৃপক্ষ, এমনটাই অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। আর যে কারনেই প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে রামপুর বাজার স্টেশনের সেই রেক পয়েন্টটি। ব্যবসায়ীদের আরো অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আজো রেকপয়েন্টে গড়ে ওঠে নি কোন শেড, নেই পানীয় জল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও। আর যা নিয়ে ইতিমধ্যে সাংসদের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। এদিকে এই ঘটনায় সাংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। তিনি বলেন একমাস ধরে রেকপয়েন্ট বন্ধ, তো সাংসদ কি করছে ? এদিকে এই ঘটনার প্রায় একমাস পর বুধবার রেলদপ্তরকে একটি চিঠি দিয়েছেন এই কেন্দ্রের সাংসদ তথা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
রামপুর বাজার স্টেশনের লেবার ঠিকাদার সহিদুর ইসলাম বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার জেরে বন্ধ রয়েছে রেকপয়েন্ট। আর যার কারনে প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়ে দিশাহারা অবস্থায় রয়েছে।
ব্যবসায়ী সমরেন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, শুধুমাত্র রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রেক পয়েন্টটি। বেহাল রাস্তার কথা রেল দপ্তরকে বারবার জানানো হলেও তারা তা কর্ণপাত করেনি। এক মাস ধরে রেক পয়েন্ট বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। শুধু তাই নয় আজ অবধি রেক পয়েন্টে শেড, পানীয় জল ও বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থায় করেনি রেল।
লরি মালিক শেখর সাহা বলেন, বেহাল রাস্তার কারণে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার মুখে পড়ছিল মাল বোঝাই লরি গুলি। যার খেসারত গুনছিলেন লরি মালিকেরা। দীর্ঘ একমাস ধরে রেক পয়েন্ট বন্ধ থাকার কারণে প্রায় অনেকেরই রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বালুরঘাট ট্রাক অনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সম্পাদক গৌতম বসাক বলেন, বেহাল রাস্তার কারনে লরি মালিকদের যে সমস্যা তার কথা রেলদপ্তরকে জানাবার পাশাপাশি সাংসদকে জানিয়েছেন তারা। সবরকম ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।
মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, রেলের বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ করার কোন জায়গা নেই। রাস্তার কারনে এক মাস ধরে যদি রেক পয়েন্ট বন্ধ থাকে, তাহলে এই কেন্দ্রের মানুষ যাকে ভোট দিয়ে সাংসদ করেছেন তিনি কি করছেন।

