বালুরঘাট, ১৩ নভেম্বর ——–— বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস নিয়ে যাত্রীদের অসন্তোষ বহুদিনের। টিকিট ছাড়া যাত্রীর ভিড়, মহিলা কামরায় পুরুষদের দখলদারি, এবং অপরিচ্ছন্নতার জন্য স্থানীয়রা ট্রেনটিকে ঠাট্টায় ‘মামাবাড়ির ট্রেন’ নাম দিয়েছেন। এইসব অভিযোগ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই কার্যত নড়েচড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। কাটিহার ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) সুরেন্দ্র কুমার পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার দুপুরেই বালুরঘাট স্টেশনে ছুটে এসেছেন। রেলের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবার পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ শুনে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।একইসাথে ট্রেনটির পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডি আর এম। যেখানে এদিন ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেলের অন্যান্য আধিকারিকরা।
ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই ট্রেনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মানোন্নয়ন এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে আরপিএফ-এর সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, যাত্রীদের স্বস্তির সঙ্গী হয়ে প্রায় এক দশক আগে বালুরঘাট থেকে চালু হয়েছিল বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। প্রথমে নয়টি কামরায় এই ট্রেন যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে সেটি সংকুচিত হয়ে সাত কামরায় এসে ঠেকেছে। কামরার সংখ্যা কমায় তীব্র ভিড়ের মধ্যে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে মহিলা কামরা নিয়ে। নির্ধারিত কামরা থাকা সত্ত্বেও পুরুষ যাত্রীরা দখল করে নিয়েছেন ওই কামরাগুলি, যা নিয়ে নারী যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। শুধু নিরাপত্তার অভাবই নয়, ট্রেনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও বেহাল। অপরিচ্ছন্ন কামরা আর শৌচালয়ের দুর্গন্ধে যাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে ট্রেন যাত্রীদের কাছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হচ্ছে এই ট্রেনটিতে টিকিটবিহীন যাত্রীর প্রবণতা। রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে অধিকাংশ যাত্রী টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছেন। টিকিটবিহীন যাত্রীদের ভিড়ে ঠাসা এই ট্রেনকে কটাক্ষ করে অনেক যাত্রীরা ‘মামাবাড়ির ট্রেন’ বলেও ডাকা শুরু করেছেন, যেন এটি নিয়ন্ত্রণহীন ও দায়িত্বহীন। যাত্রীদের অভিযোগ, একদিকে নিরাপত্তা ও পরিষেবার অভাব, অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে ট্রেনটি এক চরম দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হতেই কিছুটা নড়ে চড়ে বসে রেল কর্তৃপক্ষ। এদিন বালুরঘাট স্টেশনে এসে রেলের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি ট্রেনের যাবতীয় অব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডি আর এম সুরেন্দ্র কুমার।

