রাস পূর্ণিমায় তপনের ঐতিহ্যবাহী নিশানিতে সড়ক কালী মাতার পুজোতে মানুষের ভিড় নামল সকাল থেকেই।

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 বালুরঘাট ৪ অক্টোবর দক্ষিণ দিনাজপুর ————————রাস পূর্নিমায় শুরু হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপনের ঐতিহ্যবাহী নির্শানী সড়ক কালীপুজো। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে পুজো দিতে ভিড় জমালেন হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন।সেই সঙ্গে জমে উঠল মেলা।
তপন ব্লকের নির্শানী গ্রামের নাম শুনলে এক সময় চমকে উঠতেন সাধারন মানুষজন। কারণ এলাকাটি ছিল জন মানব শূন্য। চারিদিকে শুধু বন জঙ্গল। সূর্য ডোবার পর তো দুরে থাক। দিনের বেলায় নির্শানী এলাকায় কেউ যাবার সাহস।দেখাতেন না। একদিকে শেয়ালের ভয়। আরেক দিকে সন্ধ্যের পর চোর,ডাকাতদের আস্থানায় পরিনত হত। মাঝে মধ্যে এলাকায় ঘটত চুরি ছিনতাই। সেই সঙ্গে প্রতিদিন পথ দুর্ঘটনা লেগেই থাকত।
এসবের মাঝে প্রবীন বাসিন্দা প্রবোধ মন্ডল নির্শানীতে সড়ক কালীপুজো করার স্বপ্নাদেশ পান বলে জানা গেছে।মায়ের আদেশ পাবার পর প্রবোধ বাবু বিষয়টি নিয়ে এলাকার বাসিন্দা দ্বিগেন মন্ডল,প্রানেশ চক্রবর্তী,গৌর সেন,শ্যামল সেনদের সঙ্গে আলোচনা করেন।সেই থেকে প্রতিবছর রাস পূর্নিমাতে নির্শানীতো সড়ক কালী পুজো হয়। পুজোর শুরু হবার পর থেকে এলাকার আশপাশে জনবসতি গড়ে উঠেছে।কমেছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মত অপরাধ মূলক ঘটনা।কমেছে দুর্ঘটনা। এবছর নিয়ম করে নির্শানী সড়ক কালী মাতার পুজো হচ্ছে। তবে এবছর মায়ের নব নির্মিত মন্দিরে পুজো হচ্ছে। পুজো ঘিরে এদিন সকাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজর গড়ে উঠেছে। হিন্দু ভক্তদের পাশাপাশি বহু মুসলিম ভক্তরা পুজোয় মেতে উঠেছে।
পুজো ঘিরে মন্দির চত্বরে অসংখ্য ভোগের দোকান বসেছে। সেই সাথে জমে উঠেছে মেলা।
নির্শানী সড়ক কালী মন্দিরের পুরোহিত বৈদ্যনাথ মুখার্জি বলেন,”এক সময় নির্শানী এলাকা বনজঙ্গলে ঘেরা ছিল। এলাকায় কোনো বাড়ি ঘর না থাকায় দিনের বেলায় শেয়াল ঘুরে বেড়াত। প্রতিদিন নির্শানী এলাকায় পথ দুর্ঘটনা ঘটত। বেশ কয়েকজন মারাও গিয়েছিলেন। মাঝে মধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটত। এলাকার প্রবীন বাসিন্দা প্রবোধ মন্ডল মায়ের পুজো করার স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করে ছিলেন। প্রতিবছর রাসপূর্নিমার মায়ের পুজো হয়। এদিন নিয়ম মেনে পুজো হচ্ছে।”
পুজো কমিটির সভাপতি তথা আজমাতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রামপ্রসাদ রায় ও বিশিষ্ট সমাজসেবী সমীর রাহারা আরো বলেন,”একটা সময় নির্শানী খুব ভয়ানক এলাকা ছিল। সড়ক কালীমাতার পুজোর পর থেকে এলাকায় দুর্ঘটনা কমেছে। চুরি,ছিনতাই বন্ধ হয়েছে। রাম ও সমীরবাবু বলেন,নির্শানী মাতা খুব জাগ্রত। যারা মানত করেন তাদের মনস্কামনা হয়। তাই দিন সকাল থেকে পুজো দিতে দুর দুরান্তের ভক্তদের ভিড় জমছে।”
পুজোর সম্পাদক অনুপ মন্ডল বলেন,”গত বছর থেকে মায়ের নতুন মন্দিরে রাসপূর্নিমার সন্ধ্যায় বার্ষিক পুজো হয়।রীতি অনুয়ায়ী আজকে মায়ের পুজো হচ্ছে। হিন্দু,মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের পুজোয় অংশ নেয়। এবছর ভেদাভেদ ভুলে সড়ক কালীমাতার পুজোয় মেতে উঠেছি।পুজোতে পাঠা বলি হয়।”
পুজো দিতে আসা শুক্লা দাস সহ আরো দুই মায়ের ভক্তরা বলেন,”ভেদাভেদ ভুলে প্রতিবছর আমরা নির্শানী কালীপুজোয় মেতে উঠি। বাইরে থেকে চাঁদা তুলতে হয় না। ভক্তদের দানে মায়ের মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে।সেখানে এবছর পুজো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *