বালুরঘাট, ৪ নভেম্বর —–“পশ্চিমবঙ্গ এখন ধর্মশালা হয়ে গেছে! খাও, দাও, ধাজিয়া খাটিয়ে শুয়ে পড়ো!”—একেবারে সিনেমার সংলাপের মতো তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মঙ্গলবার বালুরঘাটের রবীন্দ্রভবনে দলের কর্মী বৈঠক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি একের পর এক কড়া মন্তব্য ছুড়ে দেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।
এস আই আর জারি হতেই সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু মানুষ গ্রাম ছাড়ছেন, ঘর গুটোচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গেই মিঠুনের তীব্র কটাক্ষ, “যারা রাতারাতি এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তারাই আসল বুদ্ধিমান। কারণ পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।”
কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের এস আই আর বিরোধী মিছিল নিয়েও তির্যক আক্রমণ শোনা গেল তাঁর গলায়। প্রশ্ন তুললেন, “ওরা কাদের জন্য মিছিল করছে? বাংলাদেশকে কি বলতে চাইছে—দেখুন, আপনাদের লোকেদের জন্য আমরা কত করছি! আপনারা প্রস্তুত হন, চলে আসুন?”
এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর সফরে আসেন তিনি ‘মিঠুন যোদ্ধা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে। যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বাপী সরকার, শুভেন্দু সরকার সহ জেলা নেতৃত্ব।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মিঠুনের স্পষ্ট বার্তা—“বিজেপি এখন একটাই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে—রাজ্যের দুর্নীতি, হিংসা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে লড়াই।”
তিনি জানান, ‘মিঠুন যোদ্ধা’ নামে ১৫০ সদস্যের একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ টিম গঠন করা হয়েছে। সেই টিমে থাকবে রাজ্যের রাজনৈতিক আপডেট—এস আই আর থেকে বিধানসভা ভোট, বিক্ষোভ থেকে আন্দোলন—সব তথ্যই মুহূর্তে পৌঁছে যাবে কর্মীদের কাছে।
মিঠুনের এই ধারালো আক্রমণে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়। কেউ বলছেন, লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর বিজেপির নতুন আগুন জ্বালাতে নেমেছেন “মিঠুন যোদ্ধা”। আবার অনেকে মনে করছেন, এটি দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির নতুন সুর, নতুন সংগঠনের সূচনা।

