সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সঙ্গে পুলিশের যৌথ অভিযান। সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হল ২০-২৫ টি পরিবারকে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর সেই জমিতে সরকারি প্রকল্পের কাজ হওয়ার জন্য দখলমুক্ত করা হয়েছে

উত্তরবঙ্গ কলকাতা খেলা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

মালদা;০৬মে : ——––এদিকে এই উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া এক ব্যক্তির দাবি তার কাছে জমির দলিল রয়েছে।টাকার বিনিময়ে তিনি ওই জমি কিনে ছিলেন।প্রশ্ন উঠেছে তবে সরকারি জমির ভুয়ো দলিল করে কে বা কারা বিক্রি করেছিল?এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত দেখছে বিজেপি। বিজেপির দাবি এই জায়গায় ভাগাড় করা হবে। আর ভাগাড়ের জন্য উচ্ছেদের বিরোধীতা করেছে বিজেপি। সাথে বিজেপির অভিযোগ এরকম অনেক সরকারি জমি তৃণমূল নেতারা দখল করে রেখেছে।জমি মাফিয়াদের পেছনে প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে তৃণমূলের। ব্যবসায়ী সমিতিও সদর এলাকায় লোকবসতির মধ্যে ভাগাড় করার বিরোধীতা করেছে।যদিও বিজেপির অভিযোগ কে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন মানবিক দিক দিয়ে তারা ভূমিহীনদের পাশে রয়েছেন। সমগ্র ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় হলদিবাড়ি মোড়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায় হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। উপস্থিত ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক ভিক্টর সাহা। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক বিডিও অনির্বান বসু। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি দেওদূত গজমের। ওই জমিতে বসবাসকারী ২০ থেকে ২৫ টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। তাদের মধ্যেই দুলাল সিংহ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন তিনি ২০১৩ সালে টাকার বিনিময়ে ওই জমি কিনে ছিলেন। তার কাছে সেই দলিল রয়েছে।সূত্রের খবর এখানে প্রত্যেক পরিবারই টাকার বিনিময়ে জমি কিনে বসবাস করছিল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কারা টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রি করেছিল। কেনই বা সেই সময় পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। জমি মাফিয়াদের সঙ্গে শাসকদল এবং প্রশাসনের আতাতের অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। বিজেপির অভিযোগ ওই জায়গায় ভাগাড় করা হবে। তাই এই পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করল প্রশাসন। কিন্তু সদর এলাকায় ভাগাড় হতে দেবে না বিজেপি।দরকার হলে আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছে তারা। সাথে বিজেপির দাবি এই রকম অনেক জমি তৃণমূলের নেতারা দখল করে রয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর ঘোড়া গাড়ি স্ট্যান্ডের সরকারি জমি দখল করে শপিং মল তৈরি হয়েছে। কিন্তু তখন পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায় তৃণমূল ভোট পায় না বলে লোক বসতির মধ্যে ভাগাড় করে পরিবেশ দূষণ করতে চাইছে। এমনটাও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে বিজেপি। যদিও বিজেপির অভিযোগ কে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে ওখানে পরিবার গুলো অনেকদিন ধরে বসবাস করত।মানবিক ভাবে তারা সেই ভূমিহীন পরিবারের পাশে রয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর ব্যবসায়ী সমিতির দাবি সদর এলাকায় যাতে ভাগাড় না হয়। নাতো দুর্গন্ধ এবং মশা মাছির ফলে পার্শ্ববর্তী লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়বে। পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানোতর।

জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া দুলাল সিংহ বলেন, আমি বহু বছর বাইরে কাজ করে অতি কষ্টে টাকা জমিয়ে ছিলাম। দিয়ে এখানে জমি কিনে ছিলাম বাড়ি করে থাকবো বলে।আমার কাছে জমির কাগজপত্র রয়েছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো যাতে আমাকে আমার জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক ভিক্টর সাহা বলেন, সরকারি জমিতে কোন রকম দখল করা যাবে না। ওই ব্যক্তির কাছে দলিল নেই। উনি সাম্প্রতিক কালে এই জায়গা দখল করেছে। এখানে সরকারের প্রকল্প হবে তাই আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি।

উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, ভাগাড় করার জন্য ওখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। প্রশাসনের সাহস থাকলে যে সব সরকারি জায়গা তৃণমূল নেতারা দখল করে রেখেছে সেখান থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালাক। হরিশ্চন্দ্রপুর ঘোড়া গাড়ি স্ট্যান্ড দখল করে শপিংমল হয়েছে। সদর এলাকায় ভোট পাই না বলে ভাগাড় করে পরিবেশ দূষণ করতে চাইছে তৃণমূল।

হরিশ্চন্দ্রপুর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি সঞ্জীব গুপ্তা বলেন, বিজেপি কি বলল তাতে গুরুত্ব দিয়ে লাভ নেই।তবে ওই জায়গায় পরিবার গুলো অনেক দিন ধরে বসবাস করত। তারা ভূমিহীন। মমতা ব্যানার্জির সরকার সব সময় মানবিক ভূমিহীনদের জন্য। আমরা ওই পরিবারগুলোর পাশে আছি।

একদিকে ভূমিহীনদের জন্য পাট্টা বিলি করছে সরকার। অন্যদিকে এখানে সরকারি জমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করা হল। আবার যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের অভিযোগ তারা টাকার বিনিময়ে জমি কিনেছিল। হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় এর আগেও সরকারি জমি দখল করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সমগ্র ঘটনায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *