গঙ্গারামপুর, ১৪ এপ্রিল ——জনপ্লাবনের প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে ধরা পড়ল উল্টো ছবি। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর জনসভা ঘিরে গঙ্গারামপুরের গোচিহারে দেখা গেল ভাটা পড়া জনসমাগম, আর সেই সঙ্গেই হতাশার ছাপ ছড়িয়ে পড়ল নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের মুখে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সভার শুরুতেই ফাঁকা আসন চোখে পড়তেই কার্যত অস্বস্তিতে পড়ে যান নেতৃত্বরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বদের বচসাও বেঁধে যায়। যদিও পরে নিজেই সেই ঘটনার কথা স্বীকার করে প্রার্থী বলেন, টেনশনের মুহূর্তে এমনটা হয়। তাঁর দাবি, পরবর্তীতে সভাস্থলে মানুষের সংখ্যা বেড়েছিল।
তবে সেই দাবিতে ভরসা পাচ্ছেন না রাস্তার ধারে দোকান সাজিয়ে বসা ছোট ব্যবসায়ীরা। কুশমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যে বিপুল ভিড় হয়েছিল, তাতে ব্যবসা জমেছিল ভালোই। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শাহর সভাতেও লাভের আশায় কেউ জল, কেউ শশা, কেউ ঘুঘনি বা বাদাম নিয়ে বসেছিলেন। কিন্তু দিনশেষে প্রায় সকলের ঝুলিই রইল খালি।
ব্যবসায়ী অমল হালদার ও অশোক বিশ্বাসদের কথায়, “মোদির সভায় ভালো বিক্রি হয়েছিল। এখানে সেই আশায় দোকান দিয়েছিলাম। কিন্তু লোকই এল না, বিক্রি হল না কিছুই। হতাশার সুর স্পষ্ট তাঁদের কণ্ঠে।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি তৃণমূল। গঙ্গারামপুরের প্রার্থী গৌতম দাস কটাক্ষ করে বলেন, এলাকার মানুষ গত পাঁচ বছরের অনুন্নয়নের জবাব দিতে প্রস্তুত। আজকের সভার ফাঁকা চিত্রই তার ইঙ্গিত।
সব মিলিয়ে, যে সভাকে ঘিরে ছিল উচ্চ প্রত্যাশা, তা দিনের শেষে রয়ে গেল বিতর্ক, হতাশা আর রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে।

