২০১১ সালে মা, মাটি,মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বাল্য বিবাহ,বন্ধ সহ ছাত্রীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১২ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেন। তারপর থেকে রাজ্যের উচ্চ বিদ্যালয় গুলিতে ছাত্রীদের নিয়ে কন্যাশ্রী ক্লাবও চালু হয়।সেই মত প্রায় গঙ্গারামপুর শহরের বোড়ডাঙ্গিতে অবস্থিত প্রমোদ দাশগুপ্ত স্মৃতি বিদ্যাপীঠে কন্যাশ্রী ক্লাব তৈরি হয়। এদিন ছিল কন্যাশ্রী প্রকল্পের ১০ বছর পূর্তি উৎসব। সেই উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের কন্যাশ্রী ক্লাবের ছাত্রীদের নিয়ে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে কেউ সাজে জেলা শাসক। আবার কেউ বা সাজে ডাক্তার উকিল। প্রদর্শনীতে বিয়ের মন্ডপ তৈরি করা হয়। সেখানে পাত্র,পাত্রী সাজিয়ে বাল্য বিবাহ বিষয়ে সচেতনতা মূলক বার্তা দেয় । শুধু এখানেই শেষ নয়। পুষ্ঠিগত বিষয়েও থিম তুলে ধরা হয়। অভিনব ভাবে কন্যাশ্রী প্রকল্পের ছাত্রীদের দ্বারা প্রদর্শনীতে বাল্য বিবাহ বন্ধের বিষয়ে সচেতনতা মূলক বার্তা দেওয়ায় খুশি প্রশাসনিক কর্তারা।
এবিষয়ে প্রমোদ দাশগুপ্ত স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক দিব্যেন্দু সরকার বলেন,আজকে আমাদের বিদ্যালয়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পের ১০ বছর পূর্তি উৎসব পালন করা হল। সেই উপলক্ষ্যে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে কন্যাশ্রী প্রকল্পের ছাত্রীরা একাধিক থিম তুলে ধরে ছিলেন। আগামী দিনে কে কি হতে চায় সেটাও সেজে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করেছে। দিব্যেন্দু বাবু বলেন,কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হবার আগে অনেক মাঝ পথে লেখাপড়া পড়া ছেড়ে দিত। আবার অনেকে অল্প বয়সে বিয়ে করত। এমন কি বড় বড় ঘোমটা টানত। কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হবার পর ছাত্রীরা যথেষ্ট উপকৃত হয়েছে। কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হবার আগে। এবং কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হবার পরের বিষয় গুলি থিম আকারে আজকে প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।
দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছেলিনা খাতুন বলে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় আমি কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা গুলি পাচ্ছি । এতে আমার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে কোনো রকম অসুবিধা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে প্রশাসনিক আধিকারিক হয়ে কাজ করার ইচ্ছে। তাই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করলাম।
বিদ্যালয়ের আর এক ছাত্রী প্রিয়া ঘোষ বলে ” কন্যাশ্রীর বিভিন্ন সুবিধা গুলি পাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যালয় থেকে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নিজেকে অনেক সমৃদ্ধ করতে পারি। এবং নিজের মনের অনেক সাহস পেয়েছি। ভবিষ্যতে চলার পথে যে কোন সমস্যার মোকাবেলা করার সাহস পেয়েছি।পাশাশাশি সে জানায় আগে দেখলাম অল্প বয়সে দিদিদের বিয়ে হয়ে যেত। নিজের পায়ে না দাড়ানো পর্যন্ত অল্প বয়সে কেউ যেন বিয়ে না করে সেই জন্য আমরা বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা মূলক বার্তা দিলাম।

