কোচবিহার ২৫ জুন :– প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতি, জমি কেনাবেচায় কাটমানি আদায় এবং সেতু নির্মাণের কাজে বাধা দিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে এক তৃণমূল নেতা ও তাঁর স্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভ চলাকালীন অভিযুক্তদের বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপও করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত দম্পতি হলেন অরুণ কুমার দাস এবং পায়েল দাস। পায়েল দাস তুফানগঞ্জ-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা এবং তাঁর স্বামী অরুণ দাস ধলপল-১ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরজিৎ দাসের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এলাকায় জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে বড় ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার থেকে অসমগামী হেরিটেজ রোডের উপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছিল। অভিযোগ, ওই প্রকল্পের ঠিকাদার সংস্থার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের কাটমানি দাবি করা হয় এবং তোলাবাজির জেরে বর্তমানে সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েছে।
বুধবার ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়নের কাজ ব্যাহত করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা হচ্ছে, যা আর মেনে নেওয়া হবে না।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অরুণ কুমার দাস বা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা পায়েল দাসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তাঁরা এলাকায় অনুপস্থিত।

