আবাস পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি! কাঠগড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর, সাত বছর পর ফের বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় বালুরঘাট

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

বালুরঘাট, ২৯ জুন —— প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি তোলার অভিযোগে ফের উত্তপ্ত বালুরঘাট। দীর্ঘ সাত বছর পর একই অভিযোগকে সামনে এনে রবিবার একযোগে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা। অভিযোগের কেন্দ্রে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নীতা হাসদা। সরকারি প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও, আজও কেউ ঘর পাননি, ফেরত মেলেনি সেই টাকাও—এমনই অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে টাকা দিতেই হবে—এই কথা বিশ্বাস করিয়েই তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। অর্চনা মহন্ত, মঞ্জুরি দেবনাথ, রঞ্জিত মহন্তদের অভিযোগ, কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার, কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অনেকেই ধারদেনা করে সেই টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বদলে মিলেছে শুধু অপেক্ষা আর হতাশা।
এটি অবশ্য নতুন অভিযোগ নয়। ২০১৯ সালেও বঙ্গী শান্তিকলোনি এলাকার বাসিন্দারা একই অভিযোগে সরব হয়েছিলেন। অভিযোগ জমা পড়েছিল থানাতেও। কিন্তু অভিযুক্ত নিখোঁজ—এই কারণ দেখিয়ে তদন্ত কার্যত থমকে যায় বলে অভিযোগ। ফলে বছরের পর বছর কেটে গেলেও বিচার তো দূরের কথা, টাকাও ফেরত পাননি অভিযোগকারীরা।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী কাটমানির টাকা ফেরানোর কথা বলার পর ফের আশার আলো দেখেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাই আবারও থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শুধু অভিযোগ নথিভুক্ত করলেই চলবে না, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে টাকা উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
যদিও বালুরঘাট টাউন তৃণমূল সভাপতি সুভাষ চাকি বলেন, এতদিন পরে কেন অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটাও দেখা প্রয়োজন। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর কোনও খোঁজ নেই। তবে আইন আইনের পথেই চলবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সাত বছর আগের অভিযোগ ফের সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি সত্যিই খুলবে পুরনো ফাইল? নাকি আবাসের স্বপ্ন দেখিয়ে হারানো টাকার হিসেব আবারও চাপা পড়ে যাবে প্রশাসনিক নথির পাতায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *