দেড় বছর নিখোঁজ থাকার পর তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন সঞ্জলি, উদ্যোগী গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

গঙ্গারামপুর ৯ অক্টোবর দক্ষিণ দিনাজপুর: দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত তৌসি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জলি সরেন (৪০)। সঙ্গে ছিল তাঁর তিন বছরের ছোট ছেলে রাহুল। অবশেষে শুক্রবার বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে গঙ্গারামপুরে ফেরেন মা ও ছেলে। তাঁদের নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেয় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জলি সরেনের বাবার নাম প্রয়াত জিতু সরেন এবং মায়ের নাম বারকি কিস্কু। তাঁদের বাড়ি গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত তৌসি গ্রামে, সার্বমঙ্গলা ডাকঘর এলাকায়। প্রায় দেড় বছর আগে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে তিনি ছেলেকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ট্রেন নম্বর ১৬৫২৩ (এসএমভিটি বেঙ্গালুরু–বালুরঘাট এক্সপ্রেস) করে গঙ্গারামপুর স্টেশনে পৌঁছন সঞ্জলি ও তাঁর ছেলে। তাঁদের ফেরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল হেলথ ইন ইন্ডিয়া-র কর্ণাটক রাজ্য শাখা। ওই সংস্থার সঙ্গে গত এক মাস ধরে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গোটা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন গঙ্গারামপুর থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুমার কুণ্ডর নির্দেশে এসআই নরোত্তম বর্মন এবং বাসুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সিভিক আমিনুল ইসলাম।
গঙ্গারামপুর স্টেশন থেকে মা ও ছেলেকে থানায় নিয়ে আসার পর তাঁদের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর তাঁদের নিরাপদে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন সঞ্জলির মা বারকি কিস্কু এবং স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য।
গঙ্গারামপুর থানার জেনারেল ডায়েরি নম্বর ৫৯৮, তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ ঘটনাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর মা ও ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের নিরাপত্তা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার গুরুত্বও ফের সামনে এল এই ঘটনায়। গঙ্গারামপুর থানার আইসির এমন কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *