বালুরঘাট, ১২ নভেম্বর —-– যাত্রীদের স্বস্তির সঙ্গী হয়ে প্রায় এক দশক আগে চালু হয়েছিল বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। কিন্তু আজ এই ট্রেনটি যাত্রীদের কাছে স্বস্তির বদলে চরম দুর্ভোগের আরেক নাম হিসাবে পরিচিত হয়েছে। চলছে টিকিটবিহীন যাত্রীদের অবাধ যাতায়াত, মহিলা কামরায় পুরুষদের দখলদারি ও ট্রেনের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ক্ষোভে ফুঁসছেন যাত্রীরা।
প্রথমে নয়টি কামরায় এই ট্রেন যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে সেটি সংকুচিত হয়ে সাত কামরায় এসে ঠেকেছে। কামরার সংখ্যা কমায় তীব্র ভিড়ের মধ্যে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে মহিলা কামরা নিয়ে। নির্ধারিত কামরা থাকা সত্ত্বেও পুরুষ যাত্রীরা দখল করে নিয়েছেন ওই কামরাগুলি, যা নিয়ে নারী যাত্রীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত ওই ট্রেনে যাত্রা করা এক মহিলা যাত্রী বলেন, মহিলা কামরা লিখা থাকলেও সেখানে পুরুষেরাই থাকে। বলতে গেলে উল্টো চিৎকার শুনতে হয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
শুধু নিরাপত্তার অভাবই নয়, ট্রেনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও বেহাল। অপরিচ্ছন্ন কামরা আর শৌচালয়ের দুর্গন্ধে যাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে ট্রেন যাত্রীদের কাছে। এক প্রবীণ যাত্রী বলেন, “ট্রেনের শৌচালয়ের অবস্থা এতটাই খারাপ যে বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত করলে নাক চেপে থাকতে হয়। এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না।” সবচেয়ে উদ্বেগজনক হচ্ছে এই ট্রেনটিতে টিকিটবিহীন যাত্রীর প্রবণতা। রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে অধিকাংশ যাত্রী টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছেন। টিকিটবিহীন যাত্রীদের ভিড়ে ঠাসা এই ট্রেনকে কটাক্ষ করে অনেক যাত্রীরা ‘মামাবাড়ির ট্রেন’ বলে ডাকা শুরু করেছেন, যেন এটি নিয়ন্ত্রণহীন ও দায়িত্বহীন।যাত্রীদের অভিযোগ, একদিকে নিরাপত্তা ও পরিষেবার অভাব, অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে ট্রেনটি এক চরম দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই সংকট আরও জটিল হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।
পলি মিত্র ও নেহেরু ওরাও নামে দুই যাত্রী বলেন, এই ট্রেনটিতে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা সবার আগে জরুরী। বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা রেলকে সুনিশ্চিত করা উচিত।
রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায় জানান, “ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মহিলা কামরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে, টিকিটবিহীন যাত্রা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রেলের দায়িত্ববান ভূমিকা ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।”

