হরিরামপুর ৫ জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুর:-
জোর করে জমি দখলের চেষ্টা, বাধা দিতে গেলে মারধর, পরে বাড়ি ফেরানোর নামে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে সরব হলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর ব্লকের বাগিচাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেটাহার গ্রামের বাসিন্দা মমেনুর রহমান। অভিযুক্ত হিসেবে তিনি বাগিচাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আরিফ হোসেন-সহ একাধিক ব্যক্তির নামে হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুরো ঘটনার লিখিত অভিযোগ হরিরামপুর থানায় দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মমেনুর রহমানের দাবি, গত ২ জুলাই ২০২৪ তাঁর প্রয়াত পিতা রসন আলী ও কাকা দুখু মহম্মদের জমিতে অভিযুক্ত আরিফ হোসেন, আমিনুর রহমান মোয়াজ্জেম হোসেন, আক্তার হোসেন,আমিলউদ্দিন সরকার-সহ কয়েকজন একটি আমিন নিয়ে এসে তার জমি জোরপূর্বক মাপজোক শুরু করেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ তার। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের মহিলারা এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর,তার স্ত্রীকে সম্মানহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার পর হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মমেনুর রহমান। তাঁর দাবি, এরপর দীর্ঘদিন নিরাপত্তার অভাবে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে বাধ্য হন তিনি।
মমেনুর রহমান আরও অভিযোগ করেন,পরে বাগিচাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আরিফ হোসেন তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া ও সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে তিনি ফোনপের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ। তাঁর কথায়, এরপরও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযোগ,ওই প্রধানের স্বামী গত লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তার পছন্দের প্রার্থী বিপ্লব মিত্র পরাজয়ের পর থেকেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। সেই কারণে বাড়িতে তালা দিয়ে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে থাকতে হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মমেনুর রহমান।”
যদিও রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রধান ও তার স্বামী তৃণমূল নেতা আরিফ হোসেন বাড়ি ঘরে তালা দিয়ে এলাকাছাড়া। তার মোবাইলে ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও মোবাইল বন্ধ রয়েছে, তাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। যদিও মহকুমা পুলিশ অফিসারের তরফে জানানো হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

