ফুলহর নদীর জলের চাপে ভাঙল বাঁধ।দুইটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার মানুষ জলবন্দী। প্রশাসনের কর্তারা ওই এলাকায় পৌঁচেছে। ভুতনির দক্ষিণ চন্ডিপুরের কাটা বাঁধে নবনির্মিত বাঁধ ভেঙে বন্যা।ফুলহারের জলের তরে ভাঙল বাঁধটি হু হু করে জল ঢুকছে ভূতনিতে বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ চন্ডিপুরের সঙ্গে মানিকচকের যোগাযোগ।এলাকার বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র দাবি ষড়যন্ত্র করে এই বাঁধ কেটেছে সিপিএম ও বিজেপির।পাল্টা বিজেপি ও সিপিএমের প্রতিক্রিয়া।
জানা গিয়েছে,প্রতিবছর ভাঙন যেন উত্তরচন্ডিপুর ও দক্ষিন চন্ডিপুরের মানুষের কাছে আতঙ্কের বিষয়। কারন প্রতিবছর এই ভাঙ অব্যহত থাকে। তবে এইবছর গত দুই মাস আগে ওই এলাকায় ভাঙন রোধের কাজে ৬০০ মিটারের রিং বাঁধটি তৈরী হয় ১কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যায় করে। বুধবার ভোরে সেই রিং বাঁধ ফুলহর নদীর জলের ধাক্কায় ভেঙে যায়। স্বাভাবিক ভাবে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে দক্ষিনচন্ডিপুর এলাকায়। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ জলবন্দী। প্রশাসন সেখানে পৌঁছলেও এখনো কোন ব্যবস্থা নেয় নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন মণ্ডল বলেন, বর্তমানে এই বাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। হাতে ধরে এই ভুতনিকে ডোবানো হচ্ছে। এই বাধটি থামার বাধ ছিল না। রাজনীতি করে ভূতনির মানুষ পুরো চলে যাক। ভূতনির মানুষ চলে গেলে এখানকার নেতা গুলো শুধু কামাই করবে। আর আমার জন্য এখানে পুরোভাবে ছক চলছে। কোন কাজ হয়নি। এখন যা পরিস্থিতি সন্ধ্যার মধ্যে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে জল থাকবে। মানুষ বাঁচবে কি করে ভূতনির মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না।
মালদার মানিকচকের ভুতনীর বাঁধ ভাঙা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মানিকচকের তৃণমূল বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের।তার অভিযোগ ষড়যন্ত্র করে এই বাধ কাটা হয়েছে। অভিযোগ সিপিএম ও বিজেপির বিরুদ্ধে করেছেন তিনি।
আর এই পরিস্থিতির জন্য পাল্টা সাবিত্রী মিত্রকে দায়ী করেছেন এলাকার সিপিএম নেতা দেবজ্যোতি সিনহা।তিনি বলেন,আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম যেভাবে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে তাতে এই বাঁধ টিকবে না। সেটাই হলো।তৃণমূল সরকারের আমলে যে বাড়তি তৈরি করা হলো সেটা আজকে ভেঙে গেল।ভুতনি দেড় লক্ষ মানুষকে ডুবালো মানিকচকের বিধায়ক।
রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক গৌড় চন্দ্র মন্ডল।বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ফুলহার নদীর জলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা।এই সরকারের পরিকল্পনা বিহীন কাজ।ভুতনিবাসীকে প্রতিবছর ডুবাচ্ছে।বাঁধ তৈরির নামে এই সরকার টাকা লুট করেছে।ভূতনিকে ইনকামের করিডোর বানানো হয়েছে।কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ।ভূতনি বাসির সর্বনাশ আর কিছু নেতা বিধায়ক থেকে শুরু করে আধিকারিকদের পৌষ মাস।কামানো করিডোর তৈরি করা হয়েছে।ভূতনিবাসীর সঙ্গে দ্বিচারিতা করা হচ্ছে।এই সরকারের তৈরি করা বন্যায় ভূতনিবাসী ভাসছে।

