বালুরঘাট, ১০ জুন –— মাত্র কয়েক সেকেন্ড। আকাশ চিরে নেমে আসা এক বিকট বজ্রপাত। আর তাতেই শেষ হয়ে গেল একটি পরিবারের হাসি, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী থানার ব্রজবল্লবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়গ্রামে আজও বাতাস ভারী হয়ে রয়েছে সেই বিভীষিকাময় সন্ধ্যার স্মৃতিতে। ভুট্টার জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের তিন সদস্য— বাবা, মা এবং ১১ বছরের কন্যা। মৃত্যুর সেই নির্মম থাবা থেকে বেঁচে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে অনাথ হয়ে পড়েছে পরিবারের আট বছরের একরত্তি শিশু।
৪ জুনের সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর থেকেই শিশুটিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছিল এলাকাজুড়ে। কে দেখবে তাকে? কী হবে তার ভবিষ্যৎ? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল গ্রামবাসীর মনে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দিন কাটলেও বাবা-মায়ের স্নেহহারা শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল গভীর অনিশ্চয়তা।
বুধবার সেই খবর পৌঁছয় বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কাছে। এরপরই প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে তিনি পৌঁছে যান বড়গ্রামে। সঙ্গে ছিলেন বংশীহারীর বিডিও আসিত কুমার দাস, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শুলেখা রায় এবং বিজেপির জেলা নেতৃত্বের সদস্যরা।
প্রতিমন্ত্রীকে সামনে পেয়েই আবেগে ভেঙে পড়েন গ্রামবাসীরা। অনেকের চোখে জল, অনেকের গলায় কান্না। একটাই আবেদন— “সব হারানো শিশুটির পাশে দাঁড়ান।” গ্রামের সেই অসহায় আর্তি শুনে শিশুটির বাড়িতে যান সুকান্ত। কথা বলেন আত্মীয়দের সঙ্গে, খোঁজ নেন শিশুটির বর্তমান পরিস্থিতির।
এরপর তিনি আশ্বাস দেন, শিশুটির শিক্ষা, লালন-পালন এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়ে সম্ভাব্য সবরকম সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, “একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। শিশুটির পাশে দাঁড়ানো মানবিক কর্তব্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সবরকম সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।”
শিশুটির আত্মীয় সুচিত্রা সরকার ও দুলাল সরকার জানান, তাঁরা নিজেদের সন্তানের মতো করেই শিশুটিকে বড় করে তুলবেন। পাশাপাশি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার আশ্বাস তাঁদের কঠিন সময়ে নতুন শক্তি জুগিয়েছে।
বড়গ্রামের মানুষ এখনও ভুলতে পারেননি সেই কালরাত্রির বজ্রধ্বনি। তবে সর্বস্ব হারানো ছোট্ট শিশুটির মুখে আবার হাসি ফেরানোর প্রত্যয়ে আজ একসঙ্গে এগিয়ে এসেছে গোটা গ্রাম। শোকের অন্ধকার ভেদ করে সেখানেই যেন জেগে উঠছে মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো।

