মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে মামলা প্রত্যাহার, প্রতারিত গৃহবধূর ন্যায়বিচারের আর্তি,” ৩০ লক্ষ টাকা ও সম্পত্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করার অভিযোগ,দেওর, দেওরের স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি”

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

বুনিয়াদপুর ৫জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুর:দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বুনিয়াদপুরের বাড়িতে বসবাস করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতারণা, মানসিক নির্যাতন ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুললেন সরস্বতী কর্মকার। তাঁর দাবি, বোবা ও কালা স্বামীকে প্রভাবিত করে দেওর আনন্দ কর্মকার, দেওরের স্ত্রী শিল্পী দাস কর্মকার এবং শাশুড়ি পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের সর্বস্বান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
সরস্বতী কর্মকারের অভিযোগ, বুনিয়াদপুরের বাড়ির অর্ধেক অংশ তাঁর স্বামীর নামে থাকলেও সেখানে কখনও তাঁর দেওর বা দেওরের পরিবার বসবাস করেননি। অন্যদিকে, তাঁর দেওর ও পরিবারের সদস্যরা রামপুরের পৈতৃক বাড়িতেই থাকতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের সন্তানদের নিয়ে বুনিয়াদপুরের বাড়িতেই সংসার করে এসেছেন।
তাঁর আরও অভিযোগ, শাশুড়ি ও দেওরের প্ররোচনায় তাঁর স্বামী স্ত্রী ও সন্তানদের উপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার শুরু করেন এবং বুনিয়াদপুরের বাড়িতে আসা-যাওয়াও বন্ধ করে দেন। বাধ্য হয়ে তিনি বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, যে বাড়িতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, সেই বাড়ি ও জমি ফাঁকা দেখিয়ে তাঁর স্বামী দানপত্রের মাধ্যমে নিজের অংশ দেওরের নামে লিখে দিয়েছেন।
২০২৫ সালে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বংশীহারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, থানার উদ্যোগে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি আপস বৈঠক হয়, যেখানে তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং পতিরামে পাঁচ শতক জমি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। বরং দেওর আনন্দ কর্মকার ও তাঁর স্ত্রী শিল্পী দাস কর্মকার বুনিয়াদপুরের বাড়ি বিক্রির উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ।
সরস্বতী কর্মকার জানান, সম্ভাব্য ক্রেতা বিষয়টি জানার পর সমঝোতার উদ্যোগ নেন। এরপর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে পুনরায় আপসের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩০ লক্ষ টাকা ও নির্ধারিত সম্পত্তি দেওয়ার পাশাপাশি উভয় পক্ষের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
অভিযোগ, সেই সময় বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সংসার পুনরায় শুরু করার আশ্বাস এবং প্রতিশ্রুত অর্থ ও সম্পত্তি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নেন। কিন্তু মামলা প্রত্যাহারের পর প্রতিশ্রুত টাকা বা সম্পত্তি কিছুই দেওয়া হয়নি। বরং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিও প্রত্যাহার করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটছে বলে জানিয়েছেন সরস্বতী কর্মকার। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ানো হয়েছে। আমি চাই, আনন্দ কর্মকার, শিল্পী দাস কর্মকার এবং আমার শাশুড়ির বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ভবিষ্যতে কেউ যেন সরকারি দপ্তর, থানা বা আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে এভাবে অসহায় মানুষকে প্রতারণা করার সাহস না পায়।”
একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুত ৩০ লক্ষ টাকা, সন্তানদের নামে দেওয়ার কথা থাকা সম্পত্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে চলা মিথ্যা মামলাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক, যাতে তিনি ও তাঁর সন্তানরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পান। যদিও অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *