বালুরঘাট, ৯ সেপ্টেম্বর —- হাতে মোবাইল নয়, এবার ম্যাজিক লাঠি! মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ আটকে থাকা পড়ুয়াদের কৌতূহলের সেই চোখই এবার ঘুরিয়ে দিতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। ম্যাজিকের রহস্য ভেদ করে বিজ্ঞানের যুক্তি খোঁজার দিকে ছাত্র ছাত্রীদের উৎসাহ বাড়াতে নেওয়া হল অভিনব উদ্যোগও। স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে বিধিনিষেধের আবহেই এবার বালুরঘাটে শুরু হল পড়ুয়াদের নিয়ে অভিনব ‘এসো ম্যাজিক শিখি’ কর্মশালা।
শিশু-কিশোর আকাদেমি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বুধবার বালুরঘাট মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে তিন দিনের এই কর্মশালা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে যে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রামনিয়াম টি। উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক সৌম্য হালদার, জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজয় কুমার মোহন্ত, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক শুভায়ন হক সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা।
তিন দিনের এই কর্মশালায় জেলার পাঁচটি বিদ্যালয়ের প্রায় ৫২ জন পড়ুয়া অংশ নিয়েছে। কলকাতা থেকে আসা ছয় জন ম্যাজিশিয়ান তাঁদের হাতে কলমে শেখাবেন ম্যাজিকের বিভিন্ন কৌশল। এই কর্মশালার অভিনবত্ব—ম্যাজিক দেখিয়ে চমকে দেওয়া নয়, বরং কেন এমন হল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা।
ম্যাজিকের পিছনে থাকা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও কৌশল পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হবে। অর্থাৎ চোখে যা ‘জাদু, যুক্তির চোখে তাই হয়ে উঠবে বিজ্ঞানের পাঠ। জেলাশাসক বালা সুব্রামনিয়াম টি জানান, পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোই এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক সৌম্য হালদার বলেন, প্রত্যেকটি ম্যাজিকের পিছনেই বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে। সেই যুক্তি অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে পড়ুয়াদের চিন্তার পরিধি আরও বাড়বে।
বালুরঘাট নালন্দা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সৌমিত দাস বলেন, প্রতিটি উন্নত দেশে ছাত্র ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ছাত্র ছাত্রীদের মোবাইল থেকে দূরে সরাতে ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারার বিকাশ ঘটাতে এই ধরনের কর্মশালা উপযুক্ত বলেই মনে করেন তিনি।
তাই বালুরঘাটে তিন দিনের এই কর্মশালায় ম্যাজিকের মুগ্ধতার সঙ্গে যুক্তিরও হাতেখড়ি হচ্ছে পড়ুয়াদের। প্রথম দিনেই কর্মশালায় তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

