তৃণমূল দুর্গে পদ্মের হানা! দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান-উপপ্রধানের ইস্তফা, গোপালবাটি পঞ্চায়েত দখল বিজেপির

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

বালুরঘাট, ১১ সেপ্টেম্বর—-
রাজ্যে পালাবদলের রেশ এ বার পঞ্চায়েতের দরজায়! প্রধান-উপপ্রধানের ইস্তফায় কার্যত অভিভাবকহীন গোপালবাটি পঞ্চায়েত। আর সেই ফাঁকেই বোর্ডের রং বদলে গেল! শুক্রবার বালুরঘাট ব্লকের গোপালবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন বোর্ড গঠন করে দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রথম পঞ্চায়েতের দখল নিল বিজেপি। প্রশাসনের ডাকা বৈঠকে তৃণমূল ও বামেদের সদস্যদের অনুপস্থিতির মধ্যেই বিজেপির দুই মহিলা সদস্যকে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত করা হয়। বোর্ড গঠনের পর গেরুয়া আবিরে মাতেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। সকাল থেকেই এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়ায় টানটান উত্তেজনা।

২২ আসনের এই পঞ্চায়েতে ২০২৩ সালের নির্বাচনে ১২টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল। বিজেপির দখলে ছিল ৯টি, বামেদের একটি। পরে তৃণমূলের এক সদস্যের মৃত্যুতে তাদের আসন কমে হয় ১১। তবু বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ ছিল তৃণমূলের হাতেই। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই গোপালবাটিতেও শুরু হয় টানাপোড়েন। প্রধান ও উপপ্রধান পদত্যাগ করায় কার্যত থমকে যায় পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্ম।

সেই অচলাবস্থা কাটাতে শুক্রবার নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বিজেপির দাবি, নির্ধারিত বৈঠকে তৃণমূল ও বামেদের কোনও সদস্য হাজির হননি। ফলে বিজেপির দুই মহিলা সদস্যকে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত করে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়। বিজেপির দাবি, প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতেই হয়েছে গোটা প্রক্রিয়া।

তবে এই ঘটনাকে বোর্ড দখল বলে মানতে নারাজ তৃণমূল। দলের নেতা পলাশ মণ্ডলের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমাদের ছিল। আমাদের সদস্যদের পঞ্চায়েতের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। পুলিশি নিরাপত্তা না থাকায় তাঁরা বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি।

বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর কটাক্ষ, দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়ে পড়েছিল গোপালবাটি পঞ্চায়েত। রাজ্যে পালাবদলের পর ভয় পেয়ে প্রধান ও উপপ্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। পঞ্চায়েতের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই প্রশাসনের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনেই নতুন বোর্ড গঠন হয়েছে।

অন্য দিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরেই কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। পম্পা বর্মন, সম্পা বর্মন ও বন্দনা বর্মনদের অভিযোগ, আবাস যোজনার উপভোক্তাদের ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পেও কাটমানির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কথায়, বিজেপি বোর্ডে আসায় অন্তত এই দুর্নীতি কমবে বলে আশা করছি।

নবনির্বাচিত প্রধান শ্যামলী ওরাও বলেন, এত দিন জনপ্রতিনিধি হয়েও মানুষের জন্য কাজ করতে পারিনি। এ বার প্রধান হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার লক্ষ্য।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দক্ষিণ দিনাজপুরে পঞ্চায়েতের বোর্ডেও প্রথম রং বদল, গোপালবাটির এই ঘটনা আগামী দিনে জেলার গ্রামীণ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন নজর সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *